এসএসসি ফরম পূরণে অতিরিক্ত ফি আদায়ের অভিযোগ

এম আর আলী টুটুল সৈয়দপুর (নীলফামারী) প্রতিনিধি : নীলফামারীর সৈয়দপুর শহরসহ উপজেলার প্রায় প্রতিটি স্কুল প্রধানের বিরুদ্ধে এস.এস.সি ফরম পূরণে অতিরিক্ত ফি আদায়ের অভিযোগ উঠেছে।
গতকাল শহরের হাতিখানা মহল্লার প্রজাপতি স্কুল ও বঙ্গবন্ধু সড়ক সংলগ্ন পাইলট বাংলা হাই স্কুল গিয়ে ওই অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়।
স্থানীয় সূত্র জানায় চলতি বছরের অনুষ্ঠিত এস.এস.সি পরীক্ষার ফরম পূরণের বোর্ড কর্তৃক ফি নির্ধারণ করে দিয়েছেন। কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বোর্ড কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অমান্য করলে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণেরও নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। কিন্তু বোর্ড কর্তৃপক্ষের নির্দেশনার কোন তোয়াক্কাই করছেন না প্রজাপতি স্কুলের প্রধান শাকিল আহমেদ ও পাইলট বাংলা হাই স্কুলের প্রধান আনোয়ারুল ইসলামসহ অন্যান্য স্কুল প্রধানরা। এবারে এস.এস.সি পরীক্ষার ফরম পূরণে মোট ১৯শ টাকা আদায় করার কথা বলা হয়েছে।
কিন্তু স্কুল প্রধানরা নানা অজুহাতে ৬ হাজার থেকে ৮ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করে চলেছেন। এছাড়া টেস্ট পরীক্ষায় যেসব শিক্ষার্থী ১/২ সাবজেক্ট পাশ করতে পারেনি তাদের সাবজেক্ট প্রতি অতিরিক্ত আরো ১ হাজার থেকে দেড় হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করা হয়েছে বলে জানা যায়। আলাউদ্দিন নামের এক অভিভাবক জানান প্রজাপতি স্কুলটিতে নবম ও দশম শ্রেণির ক্লাস চলমান থাকলেও ওই স্কুল থেকে কোন শিক্ষার্থীরই ফরম ফিলাপ করা হয় না। অথচ ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষক, তার মেয়ে সানজিদা তাবাসসুম কে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ফরম পূরণের কথা বলে গত বছর ১০ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়ে চিরিরবন্দর উপজেলার নওখৈর স্কুলে ফরম পূরণ করিয়াছেন। ফলে প্রবেশপত্র না আসায় পরীক্ষা দিতে পারেনি সানজিদা তাবাসসুম। এবারেও ফরম পূরণে ১০ হাজার টাকা না দিলে ফরম পূরণ করা হবে না বলে অভিযোগ করেন তিনি। তিনি জানান এবারে ৩৩ জন শিক্ষার্থীকে নিজ প্রতিষ্ঠানে ফরম পূরণের কথা বলে শাকিল আহমেদ শিক্ষার্থী প্রতি ১০ হাজার টাকা করে হাতিয়ে নিয়েছেন।
একই অভিযোগ উঠেছে সৈয়দপুর পাইলট বাংলা হাই স্কুল প্রধানের বিরুদ্ধে। এই স্কুল থেকে ১৫৭ জন শিক্ষার্থী এস.এস.সি পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করছে। শিক্ষার্থী প্রতি নানা অজুহাতে ৭ থেকে ৮ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করা হয়েছে বলে জানা যায়। আর যারা ১ থেকে ৩ সাবজেক্ট ফেল করেছে তাদের সাবজেক্ট প্রতি অতিরিক্ত দেড় হাজার টাকা করে দায় করা হয়েছে বলে অভিভাবকরা অভিযোগ করেন।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় শহরসহ উপজেলার প্রায় প্রতিটি স্কুলের চিত্র একই। কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানরা বোর্ড কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা আমলে নিচ্ছেন না। বোর্ড কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মানলে তাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চালাতে পারবেন না বলে সাফ জানিয়ে দেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার এস.এম গোলাম কিবরিয়া ও উপজেলা শিক্ষা অফিসার রেহানা ইয়াসমিন জানান এস.এস.সি ফরম পূরণের অতিরিক্ত ফি আদায়ের অভিযোগ মিললে অবশ্যই কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বিপি/আর এল
আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন
আন্তরিকতার সঙ্গে দেশসেবা করতে নবীন সেনা কর্মকর্তাদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান
স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন
সঙ্গীত একাডেমি