৬ মে ২০২৬

এমসি’র ক্যাম্পাসে গণধর্ষণ: প্রধান আসামি সাইফুর গ্রেপ্তার

Logo
বাংলা প্রেস প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১২:৩৯ পিএম
এমসি’র ক্যাম্পাসে গণধর্ষণ: প্রধান আসামি সাইফুর গ্রেপ্তার
সিলেট থেকে সংবাদদাতা: সিলেটের মুরারিচাঁদ (এমসি) কলেজ ছাত্রাবাসে স্বামীকে আটকে রেখে নববধূকে গণধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি ছাত্রলীগ নেতা সাইফুর রহমানকে সুনামগঞ্জের ছাতক থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রোববার সকালে তাকে ছাতক উপজেলার নোয়ারাই ইউনিউনের নোয়ারাই ঘাট থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সহকারী পুলিশ সুপার সার্কেল (অতিরিক্ত) পুলিশ সুপার বিল্লাল হোসেন। সিলেটের দক্ষিণ সুরমার শিববাড়ী এলাকার এক দম্পত্তি গত ২৬ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় নিজেদের গাড়ি নিয়ে এমসি কলেজে বেড়াতে আসেন। তারা প্রথমে ক্যাম্পাস ঘুরে দেখেন। পরে তারা এমসি’র শতবর্ষী ছাত্রাবাস দেখতে যান। প্রাইভেট গাড়ি নিয়েই তারা ক্যাম্পাসে ঢুকেন। রাত তখন ৮ টা। এ সময় ছাত্রলীগের রঞ্জিত গ্রুপের কর্মী সাইফুর ও রনির নেতৃত্বে ৯-১০ জন কর্মী ওই দম্পত্তির কাছে আসে। এসেই তারা জোরপূর্বক স্বামীর কাছ থেকে বধূকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়। সঙ্গে নিয়ে যায় গাড়িও। পিছু পিছু স্বামী দৌড়ে গিয়ে দেখেন তার স্ত্রীকে সাইফুর ও রনির নেতৃত্বে হোস্টেলের নতুন ভবনের সামনে ধর্ষণের চেষ্টা চালাচ্ছে। এ সময় তিনি বাধা দেন। তাকে ছাত্রলীগ কর্মীরা বেধড়ক মারধর করে। এক পর্যায়ে বেঁধে রাখে। এরপর প্রাইভেট কারের ভেতরেই তারা পর্যায়ক্রমে ওই বধূকে ধর্ষণ করে। ধর্ষণের সময় গৃহবধূ ও তার স্বামী চিৎকার করলেও কেউ এগিয়ে আসেনি। পরে পুলিশ গিয়ে তাদের উদ্ধার করে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওসিসিতে ভর্তি করে। এ ঘটনার খবর পেয়ে রাত ১০ টায়ই ঘটনাস্থলে ছুটে যান সিলেট মহানগর পুলিশের ডিসি (দক্ষিণ) সোহেল রানা। এরপর থেকে পুলিশ ধর্ষকদের গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করে। রাতেই পুলিশের একটি দল নবনির্মিত হলের শাহ্‌ রনির ২০৫ নম্বর কক্ষ ও ৪ নম্বর ব্লকের সাইফুরের কক্ষে অভিযান চালায়। এ সময় সেখানে কাউকে পাওয়া যায়নি। তবে- সাইফুরের কক্ষ থেকে পুলিশ একটি আগ্নেয়াস্ত্র ও রনির কক্ষ থেকে দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করেছে। এ ঘটনায় ভোররাত ৪ টার দিকে ধর্ষিতার স্বামী ও নগরীর শিববাড়ী এলাকার বাসিন্দা বাদী হয়ে শাহ্‌পরাণ থানায় মামলা করেন। মামলায় ৬ জনের নাম উল্লেখ করা হয়। এজাহারনামীয় আসামিরা হলো, এম. সাইফুর রহমান, শাহ্‌ মাহবুবুর রহমান রনি, তারেক আহমদ, অর্জুন লস্কর, রবিউল ইসলাম ও মাহফুজুর রহমান। এদের সবাই ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। আসামিদের মধ্যে তারেক ও রবিউল বহিরাগত, বাকিরা এমসি কলেজের ছাত্র। তবে শাহ্‌ রনি গত বছর এমসি কলেজ থেকে মাস্টার্স পাস করলেও হলের রুম তার দখলেই ছিল। আর সাইফুর শিক্ষকদের বাংলো দখল করে বসবাস করতো। এদিকে- ধর্ষণ মামলা দায়েরের পর গতকাল সকালে পুলিশ বাদী হয়ে সাইফুর ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা দায়ের করেছে। বিপি।এসএম
[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]

মন্তব্য (0)

আলোচনায় যোগ দিন

আপনার মতামত শেয়ার করতে এবং অন্যান্য পাঠকদের সাথে যুক্ত হতে দয়া করে লগইন করুন।

এখনো কোন মন্তব্য নেই

Be the first to share your thoughts on this article!

স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন


স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন

সঙ্গীত একাডেমি


সঙ্গীত একাডেমি