২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

এক মাসেই ৭ শতাংশ বেড়েছে পশুখাদ্যের দাম

Logo
বাংলা প্রেস প্রকাশ: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:৩৮ পিএম
এক মাসেই ৭ শতাংশ বেড়েছে পশুখাদ্যের দাম

বাংলাপ্রেস ডেস্ক:  পোলট্রি ও পশুখাদ্যের প্রধান কাঁচামালের দাম বাড়ায় এক মাসেরও কম সময়ে দুই দফায় বেড়েছে পশুখাদ্যের দাম। আগস্টের শুরুতে প্রতি কেজি পশুখাদ্যের দাম ছিল প্রায় ৬৮ টাকা।

এখন সেটি বেড়ে সর্বোচ্চ ৭২ টাকা ৫০ পয়সায় বিক্রি হচ্ছে। অর্থাৎ এ সময়ে দাম বেড়েছে প্রায় ৭ শতাংশ। তবে উৎপাদনকারীদের দাবি, কাঁচামালের দাম যে হারে বেড়েছে, সে অনুপাতে ফিডের দাম বাড়ানো সম্ভব হয়নি। ফলে প্রতি কেজিতে এখনো ৩ টাকার বেশি লোকসান গুনতে হচ্ছে তাদের।

এক প্রতিবেদনে টিবিএস জানায়, কাঁচামালের দাম বাড়ায় ফিড মিলগুলো লোকসানে পড়েছে। অন্যদিকে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় ছোট খামারিরা মুরগি ও ডিমের উৎপাদন কমাচ্ছেন। এর প্রভাব পড়ছে ভোক্তা পর্যায়েও।

খাতসংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, এক মাসে ভুট্টার দাম প্রায় ২৪ শতাংশ, ডি-অয়েলড রাইস ব্র্যান (ডিওআরবি) ২৭ শতাংশ এবং সয়াবিন মিলের দাম ২০ শতাংশ বেড়েছে।

অন্যান্য প্রোটিন উৎসের দামও বেড়েছে। পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হারের ওঠানামায় আমদানি করা কাঁচামালের ব্যয়ও বেড়েছে।

বাংলাদেশ পোলট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের (বিপিআইএ) সভাপতি মোশাররফ হোসেন চৌধুরী বলেন, আগস্টে প্রতি টন সয়াবিনের দাম ছিল প্রায় ৪৩০ ডলার। এখন তা বেড়ে ৫৩০ ডলারে উঠেছে। ছোট ফিড মিলগুলোর অনুরোধে আগস্টের শেষ দিকে ফিডের দাম কেজিতে ২ টাকা এবং সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি আরও ২ টাকা ৫০ পয়সা বাড়ানো হয়েছে।

এরপরও প্রতি কেজিতে ৩ টাকার বেশি লোকসান হচ্ছে।

আকিজ ফিড মিলসের চিফ বিজনেস অফিসার এটিএম হাবিবুর রহমান বলেন, মার্চ থেকে মে পর্যন্ত প্রতি কেজি ভুট্টা ২৮ থেকে ২৯ টাকায় পাওয়া গেলেও জুন থেকে আগস্টে তা ৩৮ থেকে ৪০ টাকায় উঠেছে। মানসম্মত পশুখাদ্য উৎপাদনের মোট খরচের ৮০ থেকে ৮৫ শতাংশই কাঁচামালের পেছনে ব্যয় হয় বলে জানান তিনি।

ফিডের দাম বাড়ায় ছোট খামারিরাও উৎপাদন কমাচ্ছেন। গাজীপুরের মাওনার কুতবাড়ি গ্রামের ব্রয়লার খামারি আমির হোসেন বলেন, আগে মাসে ৩০ বস্তা ফিড কিনলেও এখন ২৮ বস্তায় নামিয়ে এনেছেন। একই সঙ্গে খামারে মুরগির সংখ্যাও কমিয়েছেন।

তিনি বলেন, ৫০ কেজির এক বস্তা ফিডের দাম এখন সর্বোচ্চ ৩ হাজার ৬৭৫ টাকা। ফিডের দাম বাড়লেও সে অনুযায়ী মুরগির দাম না বাড়ায় উৎপাদন কমাতে হচ্ছে।

পশুখাদ্যের দাম কমানো, আমদানি করা কাঁচামালের কর-শুল্ক কমানো এবং ডিম ও মুরগির ন্যায্য দাম নিশ্চিত করার দাবিতে বিভিন্ন জেলায় খামারিরা বিক্ষোভও করেছেন।

বাংলাদেশ মার্জিনাল পোলট্রি ফারমার্স কাউন্সিলের সাধারণ সম্পাদক রাসেল প্রধান বলেন, স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত ডিওআরবি ও রাইস ব্র্যানের সরবরাহ আগে দেশের চাহিদা মেটাতে নিশ্চিত করা দরকার। পাশাপাশি আমদানি করা কাঁচামালের ওপর ভ্যাট, কর ও শুল্ক কমানো এবং বাজার তদারকি জোরদারের দাবি জানান তিনি।

পশুখাদ্যের দাম ও উৎপাদন কমার প্রভাব পড়েছে বাজারেও। শনিবার ঢাকার বাজারে ফার্মের ডিম প্রতি ডজন প্রায় ১৫০ টাকা এবং ব্রয়লার মুরগি কেজি ১৯০ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। আগস্টের আগে ব্রয়লার ১৭০ থেকে ১৮০ টাকা এবং ডিম ১৩০ থেকে ১৪০ টাকায় বিক্রি হয়েছিল।

এ বিষয়ে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু বলেন, পশুখাদ্যসহ উৎপাদন উপকরণের খরচ কমাতে সরকার কাজ করছে। নিরাপদ ও সাশ্রয়ী দামে পোলট্রি পণ্য নিশ্চিত করতে উৎপাদন খরচ কমানো জরুরি।
বিপি>টিডি

[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]

মন্তব্য (0)

আলোচনায় যোগ দিন

আপনার মতামত শেয়ার করতে এবং অন্যান্য পাঠকদের সাথে যুক্ত হতে দয়া করে লগইন করুন।

এখনো কোন মন্তব্য নেই

Be the first to share your thoughts on this article!

আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন

সঙ্গীত একাডেমি


সঙ্গীত একাডেমি