এ কোন রোগে ভুগছে শিশু রেহাকুল!
বাংলা প্রেস
প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১২:৪০ পিএম
গাইবান্ধা প্রতিনিধি: জন্মের সময় হাতের দুটি আঙ্গুল জোড়া লাগানো ছাড়া পুরোপুরি স্বাভাবিক ছিল রেহাকুল। কিন্তু দিন পেরোতে থাকলে ধীরে ধীরে বড় ও মোটা হতে থাকে তার ডান ও বাম হাতের আঙ্গুলগুলো। চিকিৎসকের কাছে গিয়েও শনাক্ত করা যায়নি রোগ।
অবস্থা এমন যে হাতের ওজন এখন প্রায় দেড় কেজি হয়ে গেছে। যা স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশী। এতে করে কষ্টে দিন কাটছে শিশুটির। হাতের এই অস্বাভাবিক বৃদ্ধি দেখে অনেকে ভীত হয়ে পড়েন। সাত বছর বয়সী এই রেহাকুল ইসলাম রেহানের বাড়ী গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার কামালেরপাড়া ইউনিয়নের সুজালপুর গ্রামে। সে ওই গ্রামের আবদুল হাইয়ের ছেলে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, শিশু রেহাকুলের বাবা আবদুল হাই ঢাকায় রিকসা চালান আর মা রেহেনা বেগম অন্যের বাড়ীতে কাজ করেন। ২০১৫ সালে জন্মগ্রহন করে রেহাকুল। জন্মের সময় ডান হাতের দুটি আঙ্গুল জোড়া লাগানো ছাড়া স্বাভাবিক ছিল সে। এর কয়েক মাস পর বাবা-মা বুঝতে পারেন দিন দিন বড় হচ্ছে ছেলের হাতের আঙ্গুলগুলো। ডান হাতের পাঁচটি ও বাম হাতের দুইটি আঙ্গুল স্বাভাবিকের চেয়ে অনেকটা মোটা হচ্ছে। পরে আতঙ্কিত হয়ে তারা স্থানীয়, উপজেলা ও জেলা হাসপাতালসহ বগুড়ার চিকিৎসকের দ্বারস্থ হন।
পরীক্ষা-নীরিক্ষার পরও শনাক্ত করা যায়নি রোগ। তাই তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় যাওয়ার পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা। কিন্তু টাকার অভাবে রেহাকুলকে ঢাকায় নিতে পারেনি দরিদ্র বাবা-মা। ফলে যে চিকিৎসক যেটুকু ওষুধ দিয়েছেন তা খেয়ে মেলেনি কোন সুফল। রেহাকুল স্থানীয় জান্নাতুন নাইম সালাফিয়া ও হাফিজিয়া মাদরাসায় পড়ছে। বর্তমানে শিশুটি মানবেতর জীবন-যাপন করছে। শিশু রেহাকুলের পাশে দাঁড়াতে বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহবান জানিয়েছেন রেহাকুলের পরিবার।
রেহাকুল জানায়, আমার বন্ধুরা খেলে, দৌঁড়ায়, লাফালাফি করে। কিন্তু আমি তা করতে পারি না। হাতের ওজন বেড়ে যাওয়ায় চলাফেরার সময় কষ্ট হয়। আমার বাবা-মায়ের টাকা নেই, তাই ঢাকায় গিয়ে উন্নত চিকিৎসাও হচ্ছে না। আমার হাত দেখে অনেকে ভয় পায়। আমার কাছে সহজে আসতে চায়না। রেহাকুলের মা রেহেনা বেগম জানান, অভাবেব সংসারে ছেলের উন্নত চিকিৎসা করাতে পারছি না। এখন রেহানের চলাফেরা কষ্টকর হয়ে পড়েছে। সে কোন কাজ করতে পারেনা। যদি কেউ আমার ছেলের চিকিৎসার দায়িত্ব নিতো তাহলে হয়তো আমার ছেলে সুস্থ্য হতো। জান্নাতুন নাইম সালাফিয়া ও হাফিজিয়া মাদরাসার মোহতামিম (পরিচালক) আবদুল বারী জানান, রেহাকুলের প্রতিভা অনেক ভাল।
কিন্তু রেহানের ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তায় পড়েছে। তার আঙ্গুলগুলো বাড়তে থাকলে একসময় তার চলাফেলা অসম্ভব হয়ে পড়বে। তাকে সবসময় শুয়েই থাকতে হবে। সমাজের সহৃদয়বান ব্যক্তিরা যদি তার পাশে দাঁড়াতো তাহলে রেহাকুল হয়তো নতুন জীবন ফিরে পেতো।
উন্নত চিকিৎসার বিষয়ে জানতে চাইলে সাঘাটা উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মানিক চন্দ্র রায় বলেন, প্রতিবন্ধীদের চিকিৎসার জন্য সমাজসেবা অধিদপ্তর থেকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও জেলা হাসপাতালে চিকিৎসার সুযোগ আছে। জেলার বাহিরে চিকিৎসা বা চিকিৎসার জন্য আর্থিক কোন সহযোগিতার সুযোগ নেই এখান থেকে।
বিপি/কেজে
[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]
আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন
স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন
সঙ্গীত একাডেমি