চিত্রনায়ক সালমান শাহ হত্যা মামলা
ডনের জামিন আবেদন দায়রা আদালতেও নামঞ্জুর
বাংলাপ্রেস ডেস্ক: চিত্রনায়ক সালমান শাহ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে থাকা খলনায়ক আশরাফুল হক ডনের জামিন আবেদন ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতও নামঞ্জুর করেছেন। আজ মঙ্গলবার ঢাকার ১১তম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ নুরুল ইসলাম শুনানি শেষে জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করেন।
ডনের পক্ষে আইনজীবী তারিকুল ইসলাম জুয়েল জামিন চেয়ে শুনানি করেন। গত ৯ অগাস্ট হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ডনকে গ্রেপ্তার করে ইমিগ্রেশন পুলিশ। ওইদিনই আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এরপর গত ১২ অগাস্ট ঢাকার সিএমএম আদালত তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন। ওই আদেশের বিরুদ্ধে দায়রা আদালতে জামিন আবেদন করা হয়।
এদিকে, এ মামলায় তদন্তকারী কর্মকর্তা গত ২০ আগস্ট ডনের সাত দিনের চেয়ে আবেদন করেছেন। আসামির উপস্থিতিতে ২৭ আগস্ট রিমান্ড আবেদনের শুনানি হবে।
গত ৯ অগাস্ট হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ডনকে গ্রেপ্তার করে ইমিগ্রেশন পুলিশ। এরপর তাকে সিআইডির কাছে হস্তান্তর করা হয়। ওইদিনই তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। গত ১২ অগাস্ট জামিন আবেদন করা হলেও আদালত তা নাকচ করে দেয়। গত বছরের ২০ অক্টোবর সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরীর পক্ষে তার ভাই মোহাম্মদ আলমগীর কুমকুম মামলাটি দায়ের করেন।
১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর চিত্রনায়ক সালমান শাহ (চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন) ঢাকার ইস্কাটনের ফ্ল্যাটে মারা যান। বাংলাদেশের চলচ্চিত্র জগতে সে সময় তার জনপ্রিয়তা ছিল তুঙ্গে।ছেলের মৃত্যুর পর প্রথমে একটি অপমৃত্যু মামলা করেন সালমান শাহর বাবা কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী, কিন্তু পরে ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে- এমন অভিযোগে ১৯৯৭ সালের ২৪ জুলাই অভিযোগটিকে হত্যা মামলায় রূপান্তর করার আবেদন জানান। তখন অপমৃত্যু মামলার সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করতে সিআইডিকে নির্দেশ দেন আদালত।
১৯৯৭ সালের ৩ নভেম্বর আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিয়ে সিআইডি জানায়, সালমান শাহ ‘আত্মহত্যা’ করেন। সিআইডির প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে কমরউদ্দিন চৌধুরী রিভিশন মামলা দায়ের করেন। ২০০৩ সালের ১৯ মে মামলাটি বিচার বিভাগীয় তদন্তে পাঠায় আদালত। দীর্ঘ ১১ বছর পর ২০১৪ সালের ৩ আগস্ট বিচার বিভাগীয় তদন্ত প্রতিবেদনেও হত্যার অভিযোগ নাকচ করা হয়।সালমান শাহের বাবার মৃত্যুর পর তার মা নীলা চৌধুরী মামলটি চালিয়ে যান।
২০১৫ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি নীলা চৌধুরী ১১ জনের নাম উল্লেখ করে বিচার বিভাগীয় তদন্ত প্রতিবেদনে ‘নারাজি’ দেন। তখন আদালত মামলাটি র্যাবকে তদন্তের দায়িত্ব দেয়। কিন্তু রাষ্ট্রপক্ষ আপত্তিতে ২০১৬ সালের ২১ অগাস্ট ঢাকার ৬ নম্বর বিশেষ জজ ইমরুল কায়েশ র্যাবের তদন্ত বাতিল করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) তদন্ত করতে বলেন। চার বছর তদন্তের পর ২০২০ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি পিবিআইও হত্যার অভিযোগের কোনো প্রমাণ হয়নি মর্মে প্রতিবেদন দাখিল করেন। ওই প্রতিবেদনেও সন্তুষ্ট ন হয়ে নীলা চৌধুরী ছেলের মৃত্যু কীভাবে হয়েছিল, তা জানতে নারাজি দিয়ে পুনঃতদন্ত চান। তবে সিএমএম আদালত ২০২১ সালের ৩১ অক্টোবর নারাজি আবেদন নাকচ করে আসামিদের অব্যাহতির আদেশ দেন।
এরপর আবার সালমান শাহর পরিবারের পক্ষ থেকে রিভিশন দায়েরে করেন।২০২৫ সালের ২০ জুন ঢাকার ৬ষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা মো. জান্নাতুল ফেরদৌস ইবনে হক রিভিশন গ্রহণ করে সালমান শাহর মৃত্যুর ঘটনায় হত্যা মামলা গ্রহণ করতে রমনা মডেল থানা পুলিশকে নির্দেশ দেন। সে অনুযায়ী গত বছরের ২০ অক্টোবর সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরীর পক্ষে তার ভাই মোহাম্মদ আলমগীর কুমকুম মামলাটি দায়ের করেন। মামলার এজাহারনামীয় আসামিসহ অজ্ঞাতনামা পলাতক আসামিরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে পরস্পর যোগসাজসে ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর সালমান শাহ্কে হত্যা করা হয়।
বিপি/কেজে
আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন
মহানবী (সা.)-এর আদর্শ তরুণদের জন্য হতে পারে প্রেরণার উৎস: প্রধানমন্ত্রী
সঙ্গীত একাডেমি