ধুনটে শীতার্ত খুদে হাফেজদের পাশে দাড়ালেন ইউএনও
ইমদাদুল হক ইমরান, ধুনট (বগুড়া) থেকে: মানসিক ও শারীরিক প্রতিবন্ধী, ভিক্ষুক, এতিম, শিক্ষার্থীসহ অসহায় মানুষের বিপদের বন্ধু বগুড়ার ধুনট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিয়া সুলতানা। কর্মস্থলে অসংখ্য গরিব দুঃখী ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন তিনি। দক্ষতা ও সুনামের সাথে প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি সুযোগ পেলেই অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ান।
খবরের কাগজ বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কোনো অসহায় মানুষের খবর আসলেই ছুটে গিয়েছেন তাদের বাড়ি বা ডেকে এনেছেন তার কার্যালয়ে। প্রশাসনিক উদ্যোগের পাশাপাশি অনেক সময় ব্যক্তিগত উদ্যোগ এবং নিজের অর্থে অনেকের পাশে থেকেছেন। তারই ধারাবাহিকতায় শীতে যখন সারাদেশ কাঁপছে ঠিক তখন মানবতার হাত বাড়িয়ে দরিদ্র ও অসহায় ব্যক্তিদের পাশে দাঁড়িয়েছেন তিনি। নিজেই ছুটে গিয়েছেন বিভিন্ন এতিমখানা, মাদ্রসা ও হাফেজখানাসহ পথে প্রান্তরে।
অসহায় মানুষদের খুঁজে বের করে তাদের শরীরে জড়িয়ে দিয়েছেন কম্বল। তীব্র শীতে কাপতে থাকা অসহায় মানুষটির মুখে ফুটিয়েছেন হাসি। একই ভাবে শনিবার দুপুরের দিকে তিনি ছুটে যান মথুরাপুর হযরত ফাতেমাতুজ্জাহরা (রাঃ) হাফিজিয়া কওমী মহিলা মাদ্রাসায়। সেখানে ৪০ জন ক্ষুদে হাফেজদের মাঝে কম্বল বিতরণ করেন। অপ্রত্যাশিতভাবে একটি করে কম্বল হাতে পেয়ে অত্যন্ত খুশি মহিলা হাফেজখানার ক্ষুদে শিক্ষার্থীরা। তারা আবেগ জড়িত কণ্ঠে বলেন, আমাদের এখানে আগে কোনোদিনই কেউ এভাবে দেখতে আসেনি। শীতের কাপড়ও দেননি।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাজিয়া সুলতানা বলেন, সরকারি অনুদানের কম্বল গুলো প্রকৃত শীতার্তদের মাঝে বিতরণের জন্যই হতদরিদ্রদের আবাসস্থলে গিয়েছিলাম। বিত্তবান মানুষ গরম কাপড় ক্রয় করে শীত নীবারণ করলেও গরীব-ছিন্নমূল মানুষেরা টাকার অভাবে ক্রয় করতে পারছে শীতের গরম কাপড়। তাই অসহায় দরিদ্র, ছিন্নমুল ও নিম্ন আয়ের মানুষের জীবনে নেমে এসেছে চরম দূর্ভোগ। বিভিন্ন এতিমখানার শীতার্ত শিক্ষার্থীরা শীতে কষ্ট করেন। এরাই প্রকৃত শীতার্ত। তাদের কষ্ট কিছুটা লাঘব করার জন্য এদের কাছে ছুটে আসা। পর্যায়ক্রমে পৌর এলাকা এবং সবগুলো ইউনিয়নের মাদরাসা ও এতিমখানায় শীতবস্ত্র বিতরণ করবেন বলেও জানান তিনি।
বিপি/কেজে
আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন
আন্তরিকতার সঙ্গে দেশসেবা করতে নবীন সেনা কর্মকর্তাদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান
স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন
সঙ্গীত একাডেমি