৭ মে ২০২৬

ধুনটে বিদ্যালয় মাঠে অবৈধ হাটের কোলাহলে পাঠদান ব্যাহত

Logo
বাংলা প্রেস প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১২:৩৮ পিএম
ধুনটে বিদ্যালয় মাঠে অবৈধ হাটের কোলাহলে পাঠদান ব্যাহত

ইমদাদুল হক ইমরান, ধুনট (বগুড়া) : বগুড়ার ধুনট উপজেলার দুইটি বিদ্যালয়ের মাঠে অবৈধভাবে হাট বসানোয় লোকজনের কোলাহলে শিক্ষার্থীদের পাঠদান মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বিদ্যালয় দুটি হলো সোনাহাটা উচ্চ বিদ্যালয় ও সোনাহাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোনাহাট সরকারি হাট এ বছর উপজেলা পরিষদ থেকে ৯ লাখ ৩০ হাজার টাকায় বার্ষিক ইজারা বন্দোবস্ত দেওয়া হয়েছে। হাটের সরকারি জয়গা কম থাকায় ইজারাদার ২টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধানকে ম্যানেজ করে শনিবার ও বুধবার সকাল থেকে বিদ্যালয়ের মাঠে হাট বসানো হয়।

বুধবার (৩ জুন) সরেজমিন সোনাহাটা হাটে গিয়ে দেখা যায়, উত্তর পাশে সোনাহাটা উচ্চ বিদ্যালয় এবং দক্ষিন পাশে সোনাহাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। দুই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাঝখানে খেলার মাঠ। সেই মাঠ জুড়ে ব্যবসায়ীরা জিনিসপত্রের পসরা সাজিয়েছেন। ক্রেতারা দরদাম করে জিনিসপত্র কিনছেন। দুটি বিদ্যালয়ে এসময় পাঠদান দেওয়া হচ্ছে। ক্রেতা-বিক্রেতাদের শোরগোলে শ্রেণিকক্ষে শিক্ষকেরা কী পড়াচ্ছেন, তা শিক্ষার্থীদের বোঝার উপায় নেই। শিক্ষার্থীদেরও পাঠে মনোযোগ নেই।

সোনাহাটা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান, শিপলুর রহমান ও ওমর ফারুক জানায়, দীর্ঘদিন ধরে সপ্তাহে ২দিন হাটবারে হকারদের মাইকের বিকট শব্দে তারা ক্লাশে শিক্ষকের কথা বোঝেন না। এই দুইদিন মাঠে খেলাধুলার কোন সুযোগ থাকে না।

এছাড়াও হাটের কারনে অতিরিক্ত মানুষের চাপ থাকায় প্রায়ই তাদের সাইকেল চুরি হয়। সোনাহাটা হাটের ইজারাদার আব্দুল হাকিম বলেন, হাটের জায়গা কম হওয়ায় ২টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষা উপকরণ ও খেলাধুলার সরঞ্জামাদি ক্রয়ের জন্য বছরে ১৫ হাজার টাকা দিয়ে মাঠে হাট বসানো হয়। সোনাহাটা উচ্চ বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক শফিউল ইসলাম বলেন, মাঠে হাট বসায় শিক্ষার্থীদের পাঠদান চরমভাবে বিঘ্ন ঘটে। ইজারাদারকে মাঠ থেকে হাট অপসারনের জন্য বার বার তাগিদ দিয়েও কোন কাজ হচ্ছে না। ইজারাদারের নিকট থেকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নামে কোন প্রকার আর্থিক সুবিধা নেওয়া হয় না।

সোনাহাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কে এম হাসান মনসুর বলেন, ইজারাদার জোর করেই বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে হাট বসায়। হাটবারে বৃষ্টি নামলে বিদ্যালয়ের শ্রেণীকক্ষ ক্রেতাবিক্রেতাদের দখলে চলে যায়। এতে বিদ্যালয়ে শিক্ষার পরিবেশ ব্যাহত হয়। এ বিষয়টি উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে।

উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা কামরুল হাসান বলেন, বিদ্যালয় প্রাঙ্গনের হাট অপসারনের জন্য প্রধান শিক্ষককে লিখিত ভাবে জানানো হয়েছে। কিন্ত প্রধান শিক্ষক ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। এ বিষয়ে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ধুনট উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এসএম জিন্নাহ বলেন, বিদ্যালয় মাঠে হাট না বসানোর ব্যবস্থা করতে প্রধান শিক্ষককে বার বার তাগিদ দেওয়া

বিপি/আর এল

[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]

মন্তব্য (0)

আলোচনায় যোগ দিন

আপনার মতামত শেয়ার করতে এবং অন্যান্য পাঠকদের সাথে যুক্ত হতে দয়া করে লগইন করুন।

এখনো কোন মন্তব্য নেই

Be the first to share your thoughts on this article!

স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন


স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন

সঙ্গীত একাডেমি


সঙ্গীত একাডেমি