
গাইবান্ধা থেকে রওশন আলম পাপুল: নোয়াখালীসহ সারাদেশে সংঘঠিত ধর্ষণ, নারী নির্যাতন, যৌন হয়রানী ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে এবং ক্রমবর্ধমান নারী নির্যাতনের প্রতিবাদে ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে গাইবান্ধায় মানববন্ধন, প্রতিবাদ সভা ও বিক্ষোভ মিছিল কর্মসূচি পালন করেছে বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন। শনিবার (১০ অক্টোবর) সকালে এসব কর্মসূচি পালিত হয়।
স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন “আমাদের গাইবান্ধা”র উদ্যোগে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল কর্মসূচি পালিত হয়েছে। এতে গাইবান্ধা জেলা শহরের ডিবি রোডে পৌরপার্কের সামনে থেকে গাইবান্ধা সরকারি মহিলা কলেজ পর্যন্ত মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশ নেয় ২০টি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। সংগঠনগুলো হচ্ছে- আমাদের গাইবান্ধা, রক্তযোদ্ধা ফাউন্ডেশন, ব্লাড ডোনার ইন গাইবান্ধা, রুধির-দাড়িয়াপুর, ব্রাদারহুড অব কামারজানী, গ্রীন ভয়েস-গাইবান্ধা, উদ্যোগ গাইবান্ধা, মৈত্রেয়, জাগ্রত তরুণ সংঘ, সবার তরে আমরা, গাইবান্ধা মিউজিক ফ্যানস কমিউনিটি, ফুড লাভার্স গাইবান্ধা, বৈচিত্র্যময় বালাশীঘাট, এসএসসি-০২ ব্যাচ গাইবান্ধা, স্বপ্নবাজ গাইবান্ধা, রইস চেয়ারম্যান স্মৃতি সংঘ, বন্ধু স্পোর্টিং ক্লাব, সাম্যের গাইবান্ধা, সৃজনশীল গাইবান্ধা ও কমিউনিটি ম্যানেজমেন্ট সেন্টার। মানববন্ধন চলাকালে বক্তব্য রাখেন, গাইবান্ধা সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী আসিফ সরকার, মোসাদ্দেক হোসেন মামুন, খন্দকার নূর কুতবুল আলম তুষার, আমাদের গাইবান্ধার সভাপতি সায়হাম রহমান, সাধারণ সম্পাদক মুসাভভির রহমান রিদিম, রক্তযোদ্ধা ফাউন্ডেশনের রিয়াদুস সালেহীন রিজভী, ব্লাড ডোনারস ইন গাইবান্ধা’র আরাফাতুল্লাহ হাসান, রুধির-দাড়িয়াপুরের মানস সরকার, গ্রীন ভয়েস-গাইবান্ধা’র কনক সরকার, উদ্যোগ-গাইবান্ধা’র ফরিদুজ্জামান শাফি, মৈত্রেয়’র গালিব আল হক, জাগ্রত তরুণ সংঘের আহসান হাবিব, সবার তরে আমরা’র কাওসার আহমেদ, গাইবান্ধা মিউজিক ফ্যানস কমিউনিটি’র আরাফাত মুরসালিন, ফুড লাভার্স গাইবান্ধা’র মনিরুজ্জামান সবুজ, বৈচিত্র্যময় বালাশীঘাটের আসিফ মুজতবা আবীর, এসএসসি-০২ ব্যাচ গাইবান্ধা’র নাহিদ হাসান চৌধুরী রিয়াদ, স্বপ্নবাজ গাইবান্ধা’র মো. আরাফাত ও ব্রাদারহুড অব কামারজানী’র রায়হান সরকার প্রমুখ।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ধর্ষন সংস্কৃতি অন্ধকার যুগের প্রতিনিধিত্ব করে।বর্তমান সময়েরপ্রেক্ষাপটে, বিষফোড়ার মত চেপে বসা ধর্ষনের এই ভয়াল থাবার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ দেয়াল এবং সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। ধর্ষকের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড দিতে হবে। সকল প্রকার নারী নির্যাতন ও যৌন হয়রানী বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। সকল নারী নির্যাতনের ঘটনায় ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিয়ে উদাহরণ সৃষ্টি করতে হবে। তাহলেই আর কোন অপরাধ ঘটবে না। মানববন্ধন শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল ডিবি রোড, সার্কুলার রোড প্রদক্ষিন করে।
এছাড়া একই দিন ডিবি রোডে আরও মানববন্ধন করে বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী গাইবান্ধা জেলা সংসদ, বাংলাদেশ যুব ইউনিয়ন গাইবান্ধা জেলা শাখা, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন গাইবান্ধা জেলা সংসদ, জাতীয় যুবজোট গাইবান্ধা জেলা শাখা, জনউদ্যোগ, আদিবাসী বাঙালি সংহতি পরিষদ, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ, কর্মজীবী নারী, দুর্বার নেটওয়ার্ক, সম্প্রীতি ফোরাম, সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজন, বিকশিত নারী নেটওয়ার্কসহ আরও কয়েকটি সংগঠন।
অপরদিকে জেলা শহরের পৌরপার্কের শহীদ মিনার চত্বরে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট গাইবান্ধা জেলা শাখা প্রতিবাদ সভা করে। এতে সংগঠনের জেলা সভাপতি আলমগীর কবির বাদলের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন গাইবান্ধা জেলা অ্যাডভোকেট বার অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক আহসানুল করিম লাছু, বিশিষ্ট কবি-ছড়াকার-সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও গাইবান্ধা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আবু জাফর সাবু, কবি সরোজ দেব, নাট্যজন ফারুক শিয়র চিনু, গাইবান্ধা চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি মাকসুদার রহমান শাহান, অধ্যাপক মমতাজুর রহমান বাবু, সাংবাদিক হেদায়েতুল ইসলাম বাবু, দেবাশীষ দাশ দিপু, শাহ আলম বাবলু, খন্দকার সুমন, শাহনাজ আমিন মুন্নি, আখিরুজ্জামান বাবু, আলাল আহমেদ, স্বপন কুমার সাহা, আশরাফুল ইসলাম সবুজ, শরিফুল ইসলাম বাবু, আলম মিয়া, শামীম আহমেদ, শাহজাহান সিরাজ প্রমুখ।অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন মোহাম্মদ আমিন।
উল্লেখ্য, গাইবান্ধার মানবসেবী কিছু ছেলে-মেয়ে ২০১৪ সালে গড়ে তোলে “আমাদের গাইবান্ধা” নামের এই স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। ঈদুল আজহায় গরু ও খাসি কোরবানি দিয়ে সম্পূর্ণ গোশত গরিব-দুঃখীর মাঝে বিতরণ, নদীভাঙনের শিকার এবং বন্যার্তদের রান্না করা খাবার ও ত্রাণ বিতরণ, শীতবস্ত্র বিতরণ, রক্ত সংগ্রহ করে দেওয়া, দুস্থ অসহায়দের সহায়তা, ইফতার বিতরণ, করোনাকালীন সময়ে মানুষকে সচেতন করা, বিভিন্ন ধরনের সাহায্য পোষ্ট, কোন অসহায় মানুষের সন্ধান ও বিভিন্ন দাবিতে মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিলসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছে এই স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনটি।

“আমাদের গাইবান্ধা”র সভাপতি সায়হাম রহমান বলেন, আমাদের ইচ্ছে ছিল সোশ্যাল মিডিয়ায় এমন একটা প্লাটফর্ম তৈরি করা যেখানে গাইবান্ধার মানুষ তাদের কথা এবং নিজেদের দরকারগুলো তুলে ধরতে পারবেন। প্রতিটা মানুষের সাথে প্রতিটা মানুষকে কানেক্টেড করাই ছিল আমাদের মূল উদ্দেশ্য। সেখান থেকেই আমরা বর্তমানে এমন একটি জায়গায় পৌঁছেছি, যেখানে গাইবান্ধার প্রতিটা সমস্যা এবং গাইবান্ধার প্রতিটা ভালো জিনিস সবার আগে যে জায়গাটায় উঠে আসে আর সেটা হলো “আমাদের গাইবান্ধা”। পরবর্তীতে আমরা আমাদের এমন একটি টিম তৈরি করি যার মাধ্যমে গাইবান্ধার বিভিন্ন সমস্যায় সবার আগে আমরা পৌঁছানোর চেষ্টা করে থাকি এবং তা করছিও।
“আমাদের গাইবান্ধা”র সাধারণ সম্পাদক মুসাভভির রহমান রিদিম বলেন, গাইবান্ধার বাহির থেকে যেসকল সংস্থা ত্রাণ দেওয়ার জন্য গাইবান্ধায় এসে আমাদের সাহায্য চেয়েছে তাদের প্রত্যেককে “আমাদের গাইবান্ধা” পরিবারের মাধ্যমে পুরোপুরি সাহায্য করার চেষ্টা করেছি।
আমরা আমাদের এই সেবামূলক কার্যক্রম সর্বদা অব্যাহত রাখতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। আপনাদের স্বতস্ফুর্ত অংশগ্রহণ আর মুখের হাসিই আমাদের সামনে এগিয়ে চলার প্রেরণা বলে জানান তিনি। এসব কর্মসূচিতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার শত-শত মানুষ অংশ নিয়ে আন্দোলনকে বেগবান করেন। তারা হাতে প্লাকার্ড নিয়ে অংশ নেন কর্মসূচিতে। দাবি তুলে বিভিন্ন শ্লোগান দেন।ফলে ধর্ষণবিরোধী আন্দোলনে উত্তাল হয়ে ওঠে গাইবান্ধা।
বিপি।এসএম
[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]