৭ মে ২০২৬

দফা এক দাবি এক, শেখ হাসিনার পদত্যাগ

Logo
বাংলা প্রেস প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১২:৪১ পিএম
দফা এক দাবি এক, শেখ হাসিনার পদত্যাগ
নোয়াখালী প্রতিনিধি: বিএনপি মহাসচিব র্মিজা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সরকারকে হুঁশিয়ার করে দিয়ে বলেন, ভালোয় ভালোয় সরে যান। না হলে ফায়সালা হবে রাজপথে। দফা এক, দাবি এক, শেখ হাসিনার পদত্যাগ। হরতাল, অবরোধ নয়, শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির মাধ্যমেই সরকারকে বিদায় করা হবে। শুক্রবার (১৪ জুলাই) বিকেলে নোয়াখালী শহীদ ভুলু স্টেডিয়াম মাঠে পদযাত্রা পূর্ব সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই কথা বলেন। এ সময় তিনি নেতাকর্মীদের নিয়ে শ্লোগান দেন, টেক ব্যাক বাংলাদেশ, দফা এক দাবি এক, শেখ হাসিনার পদত্যাগ। বিএনপির এক দফার আন্দোলন করছে জানিয়ে দলটির মহাসচিব বলেন, এই সরকারের পতন ছাড়া মানুষের মুক্তি মিলবে না। গণঅভ্যুত্থানেই সরকারের পতন হবে। বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর নির্যাতনের চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, আর কতদিন আমরা এই অত্যাচার নীরবে সহ্য করব। আপনারা কি সহ্য করতে রাজি আছেন? সবাই এ সময় সমস্বরে ‘না’ সূচক জবাব দেন। কৃষকরা ভালো নেই দাবি করে ফখরুল বলেন, কৃষক ভাইদের অবস্থা সবচেয়ে খারাপ। আগে সারের বস্তা প্রতি দাম ছিলো তিনশ টাকা,আর এখন বারোশত টাকা। বিদ্যুতের দাম পাঁচগুণ বেড়েছে। বীজের দাম বেড়ে গেছে। অথচ ফসল বাজারে বিক্রি করতে গেলে দাম পায় না কৃষক। বিএনপি মহাসচিব অভিযোগ করেন, আজ ইমাম সাহেবকে বলে দেওয়া হয় খুতবা কী পড়বে কী পড়বে না। দারোগা এসে বলে যায়। অনেক আলেম-উলামাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অনেককে ফাঁসি দেওয়া হয়েছে। মিথ্যা মামলা দিয়ে অনেক নেতাকর্মীকে সাজা দিয়েছে। সবচেয়ে বড় দৃষ্টান্ত খালেদা জিয়া। মিথ্যা মামলায় সাজা দিয়ে আজ আট বছর তাকে কারাগারে বন্দী করে রেখেছে। তিনি আওয়ামী লীগের নেতাদের উদ্দেশ্যে বলেন, তারা বলে নির্বাচন আমাদের অধীনে হবে। আমরাই ভোট কেন্দ্র নিয়ন্ত্রণ করব। তারা বলছে, আমাদের মত করে সকলকে ভোট দিতে হবে। নইলে কেন্দ্র থেকে চলে যেতে হবে। শেখ হাসিনাকে ইঙ্গিত করে ফখরুল বলেন, আমাদের বলে তাদের অধীনে নাকি ভোট দিতে হবে। ২০১৮ সালে শেখ হাসিনা আমাদের ডেকে বলেছেন নিরপেক্ষ নির্বাচন হবে, সবাই ভোট করতে পারবেন। সবাইকে বলেন ভোট করতে, আমি কোন বাধা দেবনা। আমরা ভাবলাম বোধ হয় শুভ বুদ্ধির উদয় হয়েছে। কি করা যাবে বলেন! ভুতের মুখের রাম-রাম। আগের রাতে ভোট হয়ে গেল। এখন আবার বলছে, আমরা সুন্দর ভোট করব। আমাদের অধীনেই ভোট হবে। ফ্রি অ্যান্ড ফেয়ার ইলেকশান হবে। আহারে কি আবদার! শিয়ালের কাছে বারবার কুমিরের বাচ্চা দেওয়া যাবে না। বার বারই খেয়ে ফেলবে। আমরা এবার আর খেতে দিবো না। তিনি আরো বলেন, এবার মানুষ জেগে উঠেছে। কিভাবে তাদের বিশ্বাস করব। গত নির্বাচনের পরপরই ন্য়োাখালীর সুবর্ণচরে একজন মহিলাকে ধানের শীষে ভোট দেওয়ার অপরাধে অমানসিকভাবে নির্যাতন করা হয়েছে। এভাবে তারা অসংখ্য মা-বোনকে বেইজ্জত করেছে। আজকে স্বল্প আয়ের মানুষেরা বাজারে যেতে পারে না। বাজারে গেলে চাল কিনতে পারেনা, ডাল কিনতে পারেনা, মাংস কিনতে পারেনা, সবজি কিনতে পারেনা। ১০টাকা চাল দিবে বলেছে। এখন ৬০-৭০ টাকা। ঘরে ঘরে চাকরি দিবে বলেছে। কোনো চাকরি হয়নি। দুর্নীতির প্রসঙ্গ টেনে মির্জা ফখরুল বলেন, আওয়ামী লীগ আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা, স্বাস্থ্য ব্যবস্থা, বিচার ব্যবস্থা ধ্বংস করেছে। আমাদের অর্থনীতিকে ধ্বংস করেছে। দেশকে লুটের রাজত্বে পরিণত করেছে। ব্যাংকগুলো সব লুট করতে করতে খালি করে দিয়েছে। হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার করেছে। আবার পাচারের টাকা দেশে নিয়ে আসার একটা বিধান করেছে। দেশে নিয়ে আসলে আবার আড়াই পার্সেন্ট ইনসেন্টটিভ পাবে। কি মজা, আমাদের পকেট থেকে টাকা কেটে রেখে ট্যাক্সর টাকা নিয়ে তারা আবার চোরদেরকে পুরস্কার দিচ্ছে। আমাদের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব আজকে বিপন্ন। আমাদের আজকে ভোট দেওয়ার অধিকার নেই। তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়া গণতন্ত্রের জন্য আপোষহীন সংগ্রাম করেছেন। আমরা নির্বাচিত হলে রাষ্ট্র মেরামতের জন্য ৩১ দফা দিয়েছি। আমাদের নেতা তারেক রহমান এই ৩১ দফা দিয়ে আমাদের একটি নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখিয়েছেন। দেশ বাঁচাতে মেহনতি মানুষের পদযাত্রা কর্মসূচির আয়োজন করে বিএনপির চার অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন কৃষক দল, শ্রমিক দল, তাঁতি দল ও মৎসজীবী দল। চট্রগ্রাম বিভাগের ছয় জেলাসহ কুমিল্লা উত্তর ও দক্ষিণ মহানগরের নেতাকর্মীরাও এই পদযাত্রায় অংশ নেন। পদযাত্রায় আরও বক্তব্য রাখেন, কেন্দ্রীয় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকতউল্লা বুলু, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাহজাহান, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নাল আবেদীন ফারুক, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, বিএনপির কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি,বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক কমিটির সদস্য ইশরাক হোসেন, বিএনপির চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবুর রহমান শামীম প্রমূখ। এ সময় নোয়াখালী জেলা বিএনপির সভাপতি গোলাম হায়দার, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবদুর রহমান, নোয়াখালী জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশীদ আজাদ, নোয়াখালী জেলা যুবদলের সভাপতি মনজুরুল আজম সুমন, জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক নুরুল আমিন খান, জেলা বিএনপির সদস্য মো.গোলাম মোমিত ফয়সাল, জেলা শ্রমিকদলের সদস্য সচিব নিজাম উদ্দিনসহ নেতাকর্মিরা উপস্থিত ছিলেন। বিপি>আর এল
[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]

মন্তব্য (0)

আলোচনায় যোগ দিন

আপনার মতামত শেয়ার করতে এবং অন্যান্য পাঠকদের সাথে যুক্ত হতে দয়া করে লগইন করুন।

এখনো কোন মন্তব্য নেই

Be the first to share your thoughts on this article!

আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন

স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন


স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন

সঙ্গীত একাডেমি


সঙ্গীত একাডেমি