নোমান সাবিত : দেশ বিরোধী ষড়যন্ত্র ও অপপ্রচারের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে উপযুক্ত জবাব দিতে যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী বাংলাদেশিদের প্রতি আহবান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দেশের অভূতপূর্ব উন্নয়নের বাস্তব চিত্র মার্কিনীদের কাছে তুলে ধরতে তিনি প্রবাসী নেতাকর্মিদের আহবান জানান। তিনি বলেন আপনারা নিজ নিজ এলাকার মার্কিন রাজনীতিবিদের সাথে যোগাযোগ করে বাংলাদেশ সম্পর্কে প্রকৃত ধারনা দেন। আমরা যেভাবে দেশের উন্নয়নের জন্য কাজ করছি সে বিষয়গুলো তাদেরকে অবহিত করুন। স্থানীয় সময় শনিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রে প্রবাসী বাংলাদেশিদের দেওয়া ভার্চুয়াল সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এ আহবান জানান। নিউ ইয়র্কের আস্টোরিয়া ওয়ার্ল্ড ম্যানোর মিলনায়তনে বসে শত শত নেতাকর্মি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভাষণ শোনেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, যুদ্ধাপরাধী ও জাতির পিতার খুনিদের আত্মীয়-স্বজনদের পাশাপাশি দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়া অর্থপাচারকারিসহ নানা অপরাধীরা রয়েছে এই অপপ্রচারের নেপথ্যে।
তিনি বলেন, সোশ্যাল মিডিয়ায় যারা অপপ্রচার চালাচ্ছে, তাদের বেশিরভাগকেই অপকর্মে জড়িত থাকার জন্য চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে বা অপরাধ করে দেশ ছেড়ে পালিয়েছে।
সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করে সরকার এবং বাংলাদেশ সম্পর্কে মিথ্যা ও বানোয়াট তথ্য দিয়ে অন্যদের ছবক দিচ্ছেন এমন ব্যক্তিদের চরিত্র ও অপকর্ম জনসমক্ষে তুলে ধরার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, তাদের কথায় কর্ণপাত করবেন না, বরং আমাদের উন্নয়নকে জনগণের সামনে তুলে ধরুন।
শেখ হাসিনা প্রবাসী বাংলাদেশিদের প্রতি তার সরকারের করা উন্নয়ন কর্মকাণ্ডকে সকল স্থানে এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানান। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়ন সম্পর্কে আপনার এলাকার কংগ্রেসম্যান, সিনেটর এবং নির্বাচিত প্রতিনিধিদের অবহিত করুন এবং তাদের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখুন।
তিনি বলেন, বিএনপি-জামায়াত জোট ও আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বাজেটের আকারের তুলনামূলক চিত্র দেখে তাদের দ্বারা কতটা উন্নয়ন হয়েছে তা বিচার করতে পারবেন।
তিনি বলেন, বিএনপি আমলে বাজেটের আকার ছিল মাত্র ৬০ হাজার কোটি টাকা। আওয়ামী লীগ সরকারের শেষ বাজেট ছিল ছয় লাখ কোটি টাকার ওপরে। প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের ভাবমূর্তি অক্ষুণ্ন রেখে সারাবিশ্বে চলার জন্য প্রবাসী বাংলাদেশিদের প্রতি আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, বাংলাদেশ এখন বিশ্বে যে মর্যাদা ও সম্মান অর্জন করেছে তা সমুন্নত রাখার জন্য আমি আপনাদের সকলকে আহ্বান জানাচ্ছি।
তিনি মিথ্যা ও বানোয়াট অভিযোগ এনে পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্প থেকে তাদের তহবিল প্রত্যাহারের বিশ্বব্যাংকের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ায় প্রবাসী বাংলাদেশিদের ধন্যবাদ জানান, যা পরবর্তীতে কানাডার আদালতেও ভুয়া প্রমাণিত হয়েছে।
বাংলাদেশের নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মাসেতু নির্মাণের সিদ্ধান্ত বিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি বদলে দিয়েছে এবং প্রমাণ করেছে যে বাংলাদেশ যা বলে তা করার ক্ষমতা রাখে।
প্রধানমন্ত্রী আবারও জলবায়ু পরিবর্তন, কোভিড-১৯ মহামারি, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, নিষেধাজ্ঞা ও পাল্টা নিষেধাজ্ঞার কারণে বিশ্বে আসন্ন তীব্র খাদ্য সংকট সম্পর্কে দেশবাসীকে সতর্ক করে ভবিষ্যতে তা থেকে বাঁচতে সবাইকে আরও বেশি করে খাদ্য উৎপাদনের আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, যেহেতু একটি প্রকট খাদ্য সংকট আসন্ন, তাই দেশে আপনার স্বজনদের বলুন, বিভাজনের কারণে দেশের কোন জমিই অনাবাদী রাখা যাবে না। তাছাড়া বাংলাদেশ ইতিমধ্যে একটি ডিজিটাল দেশে রূপান্তরিত হয়েছে। ভোট কারচুপি ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের পাশাপাশি গুম, খুন এবং দুর্নীতি, অর্থ পাচার এবং অস্ত্র বাণিজ্যসহ সব ধরনের অপকর্মের রাজনীতি চালু করা সত্ত্বেও নির্বাচনী প্রক্রিয়া, গণতন্ত্র ও মানবাধিকার নিয়ে কথা বলার জন্য শেখ হাসিনা বিএনপির কঠোর সমালোচনা করেন।
প্রধানমন্রী একযোগে নিউ ইয়র্কে পৃথকস্থানে দূ’টি এবং ওয়াশিংটন ডিসিসহ বেশ কয়েকটি ভার্চুয়াল নাগরিক সংবর্ধনায় যোগ দেন। আস্টোরিয়া ওয়ার্ল্ড ম্যানরের মিলনায়তনে বসে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামীলীগ আয়োজিত মূল নাগরিক সংবর্ধনায় শত শত নেতাকর্মি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভাষণ শোনেন। আস্টোরিয়া ওয়ার্ল্ড ম্যানর মিলনায়তনের নাগরিক সংবর্ধনায় নেতৃত্ব দেন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামীলীগের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান ও ভারপ্রাপ্ত সাধারন সম্পাদক আব্দুস সামাদ আজাদ। সেখানে বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য থেকে আসা কয়েক শত নেতাকর্মি অংশ নেন। এছাড়াও কুইন্স প্যালেসের মিলনায়তনেও অনুরুপ একটি ভার্চুয়াল নাগরিক সংবর্ধনার আয়োজন করেন আওয়ামীলীগের অপর একটি গ্রুপ।
বিপি।এসএম
[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]