চরম নিন্দা আর বিতর্কে : 'কে হবে মাসুদ রানা'
বিনোদন ডেস্ক : চরম বিতর্ক, নিন্দা আর সমালোচনার ঝড় উঠেছে রিয়েলিটি শো “ফেয়ার অ্যান্ড লাভলী মেনস হিরো–কে হবে মাসুদ রানা”র প্রাথমিক পর্বের কয়েকজন বিচারকের আচরণ নিয়ে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিচারকদের নিয়ে দর্শকেরা নিন্দা ও সমালোচনা করেছেন। অন্যদিকে সোশ্যাল মিডিয়ায় এটা নিয়ে সমালোচনা ও বিতর্ক তৈরি হওয়ায় বিচারকদের একজন শবনম ফারিয়া নাকি থানায় জিডি করেছেন। এই অভিনেত্রীর দাবি – তাকে ভয়ভীতিও দেখানো হচ্ছে। যদিও গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে, নিন্দা, বিতর্ক আর সমালোচনার ঝড় সামাল দেওয়ার জন্যেই নাকি রিয়েলিটি শো সম্প্রচারকারী চ্যানেল কর্তৃপক্ষের পরামর্শে শবনম ফারিয়া থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন। এটা কানাঘুষা বেশ জোরালো হয়ে উঠছে।
তবে সোশ্যাল মিডিয়ার নিন্দা বিতর্ক আর সমালোচনার বিষয়টি গোচরে নিয়েছে রিয়েলিটি শোয়ের সম্প্রচার প্রতিষ্ঠান চ্যানেল আই কর্তৃপক্ষ। এই প্রতিষ্ঠানটি থেকে জানানো হয়, দর্শকদের মাঝে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার কারণে প্রচার চলতি অনুষ্ঠানটি নিয়ে তারা বেশ সতর্ক হয়েছে। পরবর্তী পর্বগুলোতে এই ধরণের কিছু আর হবে না বলে তারা দর্শকদের আশ্বস্ত করেছে।
জানা গেছে, মাসখানেক আগে রিয়েলিটি শো ‘কে হবে মাসুদ রানা’ প্রতিযোগিতার প্রাথমিক বাছাইপর্ব প্রচারিত হয়। প্রচারের পর প্রতিযোগিতার অডিশন পর্বের কিছু ভিডিও ক্লিপ ভাইরাল হয়ে যায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে। ওই সব ভিডিও ক্লিপ শেয়ার করে ফেসবুকে দর্শকেরা অভিযোগ তুলেছেন – প্রতিযোগিতায় বিচারকেরা প্রতিযোগীদের সঙ্গে চরম দুর্ব্যবহার করেছেন। ভিডিওতে বিচারক হিসেবে দেখা গেছে পরিচালক ইফতেখার আহমেদ ফাহমি, মোস্তফা কামাল রাজ, শাফায়েত মনসুর রানা, অভিনেত্রী জাকিয়া বারী মম ও শবনম ফারিয়াকে।
ভিডিও ক্লিপে দেখা গেছে, প্রতিযোগীদের কাছে মমর প্রশ্ন ছিল এমন – এভাবে চেহারা দেখানোর জন্য খামোখা আসার প্রয়োজন নেই। ইফতেখার আহমেদ ফাহমী এক প্রতিযোগীকে বলেন, যেখানে যে পরিমাণ অঙ্গপ্রত্যঙ্গ থাকার কথা, ওখানে কি আছে ওগুলো। না একটা দুইটা কম আছে? মূলত এসব আপত্তিকর প্রশ্নের কারণেই মূলত দর্শকরা বিচারকদের বিরুদ্ধে বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেন।
বিচারকদের বিরুদ্ধে দর্শকদের অভিযোগ – বিচারকেরা এভাবে আচরণ করে প্রতিযোগীদের অপমান করছেন। এই প্রসঙ্গে অনুষ্ঠানটির সম্প্রচারকারী প্রতিষ্ঠান চ্যানেল আইয়ের বিপণন বিভাগের প্রধান ইবনে হাসান খান গণমাধ্যমকে বলেন, এই ধরনের আয়োজন পূর্বপরিকল্পিত। সবকিছু আগে থেকেই ঠিক করে অনুষ্ঠানের শুটিং করা হয়। ক্রিয়েটিভ টিম এসব প্রশ্ন তৈরি করেছে। বিচারকেরা শুধু পারফর্ম করে গেছেন। দর্শকরা যেভাবে আনন্দ পান, আমরা সেভাবেই পরিকল্পনা করেছি। এই বিষয়ে তিনি দর্শক এবং ফেসবুক ব্যবহারকারীদের অনুরোধ করে বলেন, তারা যেন আমাদের শিল্পী ও বিচারকদের দোষী না করেন
অন্যদিকে, এই শোয়ের অন্যতম বিচারক শবনম ফারিয়াকে ফেসবুকে ও মোবাইলে হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। শোনা যাচ্ছে, বিষয়টি নিয়ে তিনি পল্টন থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন। প্রতিযোগীদের অপমানের বিষয় নিয়ে বলেন, এ প্রতিযোগিতার প্রাথমিক রাউন্ডের বিচারক আমি। যদি প্রতিযোগিতার কোনো দিক নিয়ে কারও কোনো অভিযোগ বা আপত্তি থাকে, সেটা প্রতিযোগিতার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো উচিত। ব্যক্তিগতভাবে আমাকে আক্রমণ করা হচ্ছে কেন? তবে শবনম ফারিয়ার এই জিডি করার বিষয়ে জোর গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে যে, ঘটনাকে ভিন্ন খাতে সরিয়ে দেওয়ার জন্যে তিনি নাকি সম্প্রচার চ্যানেলের পরামর্শেই জিডিটি করেছেন। আবার মিডিয়ায় জোর কানাঘুষা চলছে, চ্যানেল আই কর্তৃপক্ষ নাকি চ্যানেলের টিআরপি বাড়ানোর লক্ষ্যে পূর্ব পরিকল্পনামাফিক বিচারকদের দিয়ে ইচ্ছাকৃতভাবেই প্রতিযোগীদের সঙ্গে বাজে আচরণ ও অপমানজনক প্রশ্ন করানো হয়েছে।
বিষয়টি নিয়্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় বিতর্ক নিন্দা সমালোচনা আর প্রতিবাদের ঝড় উঠার পর বিষয়টি নিয়ে গণমাধ্যমেও আলোচনা হচ্ছে। এই বিষয়ে মিডিয়া ব্যক্তিত্ব ও অভিনেত্রী সারা যাকের একটি গণমাধ্যমকে বলেছেন, প্রতিযোগীরা বাস্তব ভেবে অনুষ্ঠানে অংশ নেয়। দর্শকও কিন্তু সত্য ভেবে অনুষ্ঠান দেখতে বসেন। আমি বলবো এই বিষয়ে আয়োজক ও বিচারকের ক্রেডিবিলিটি যাতে নষ্ট না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখা উচিত আয়োজক ও বিচারক উভয়েরই। এটা করলে হয়তো এমন ঘটনা ঘটতো না।
দিকে রিয়েলিটি শো সম্পর্কে অভিযোগ উঠেছে – এটি নাকি ভারতীয় টেলিভিশন চ্যানেলে ‘রোডিস’ অনুষ্ঠান নকল করে তৈরির চেষ্টা করছে চ্যানেল এই কর্তৃপক্ষ। এই বিষয় নিয়ে অনুষ্ঠানের বিচারক ও নাট্য নির্মাতা ইফতেখার আহমেদ ফাহমী বলেন, পুরো অনুষ্ঠানটি পূর্বপরিকল্পিত। আমরা সেই অনুযায়ী আমরা দায়িত্ব পালন করেছি। ব্যক্তিগতভাবে আমি কারও সঙ্গেই এ ধরনের আচরণ করি না।
প্রতিযোগীর সঙ্গে এমন আচরণ কতটা যৌক্তিক –এই প্রশ্নের উত্তরে গণমাধ্যমকে ইবনে হাসান খান বলেন, আমরা লক্ষ করেছি। এই ধরনের পরিকল্পনার অনুষ্ঠান দেখতে এখনই বাংলাদেশের দর্শক প্রস্তুত হননি। আর আমাদেরও উচিত হয়নি। আমরা একটু বেশি আগাম ভেবে ফেলেছিলাম। দর্শক ও ফেসবুক ব্যবহারকারীদের কাছ থেকে আমরা প্রতিক্রিয়া পেয়ে এই বিষয়ে অনেক সতর্ক হয়ে গেছি আমরা।
বিপি/আর এল
আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন
স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন
সঙ্গীত একাডেমি