
পার্বতীপুর থেকে সংবাদদাতা: পার্বতীপুর উপজেলার সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব অ্যাড. আব্দুল হাই মারা গেছেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন রোগে ভুগছিলেন। গত সোমবার (২৮ ডিসেম্বর) সকালে ঢাকার ল্যাবইউড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তিনি অবস্হায় মৃত্যু বরন করেন। ১৯৭১ সালে তিনি রনাঙ্গনে সরাসরি মুক্তিযুদ্ধে অংশ গ্রহন করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৩ বছর। তিনি স্ত্রী ১ছেলে ১মেয়েসহ অসংখ্য বন্ধু-বান্ধব ও আত্মীয়স্বজন রেখে গেছেন। প্রয়াত আব্দুল হাই পাতীপুরের মন্মথপুর ইউনিয়নের তাজ নগর গ্রামে জন্ম গ্রহন করেন। তিনি পার্বতীপুর পৌর সভার পুরাতন বাজার থানা মোড় এলাকায় বসবাস করেছিলেন।
মঙ্গলবার দুপুরে তার গ্রামের বাড়ী তাজ নগর কালীর ডাঙার পারিবারিক কবরস্হান নিজ নির্মিত মিনার মসজিদের পাশে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সমাহিত করা হয় তাকে। সমাজ পরিবর্তনের লড়াকু দেশপ্রেমিক একজন বিপ্লবী যোদ্ধা ছিলেন তিনি। সাম্যবাদ ও ইসলামী মুল্যবোধের চেতনাকে লালন করে আজীবন অন্যায়ের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করেছেন এই মুক্তিযোদ্ধা। নিজ অর্থে নিজভুমে বিশাল দশতলা মিনার সংযোজিত মসজিদ মাদ্রাসা হেবব্জোখানা, এতিম খানা, হাইস্কুল নির্মানসহ ইচ্ছুক ব্যক্তিদের অর্থ সহায়তায় ওমরা পালন করিয়েছেন কমান্ডার হাই। উপজেলার প্রায় সাত'শ মুক্তি যোদ্ধার পৃষ্ঠপোষক ও অবিভাবকের দায়িত্ব পালন করেছেন জীবদ্দশায় তিনি। তার বিদায়ে মুক্তিযোদ্ধাদের মাঝে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ব্যক্তি জীবনে উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত পেশায় একজন আইনজীবি ও ঠিকাদার ছিলেন। তার স্ত্রী একজন শিক্ষিকা। বর্তমানে পার্বতীপুরের একটি কলেজে অধ্যাপিকা হিসেবে কাজ করছেন। একমাত্র ছেলে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালেফোনিয়ার এক বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যায়নরত। মেয়ে অনার্স মাষ্টার্সে পড়াশোনা করছে।
উপজেলা চেয়ারম্যান হাফিজুল ইসলাম প্রামানিক, উপজেলা নির্বাহী অফিসার, সাবেক সাংসদ এজেডএম রেজওয়ানুল হক, জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড, উপজেলা সাবেক ও বর্তমান মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার,ছাত্রলীগের সাবেক ছাত্রনেতা ডিগ্রী কলেজ ভিপি শাহ্ আলম, ওসি মোকলেছুর রহমানসহ বাংলাদেশ জাসদের স্থানীয় নেতাকর্মিরা মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত তার জানাজা নামাজে অংশ নেন।
বিপি।এসএম
[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]