ছাত্রীকে ধর্ষণের পর বিয়ে করে রক্ষা পেলেও যৌতুকের মামলায় হাজত খাটলেন শিক্ষক
এম আর আলী টুটুল সৈয়দপুর (নীলফামারী) প্রতিনিধি : নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার কামারপুকুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বর্তমানে (সাময়িক বরখাস্ত) জয়নাল আবেদীন ছাত্রীকে ধর্ষণের মামলায় বিয়ে করে রক্ষা পেলেও যৌতুকের মামলায় হাজত খেটেছেন।
মামলা সূত্রে জানা যায়, কামারপুকুর উচ্চ বিদ্যালয়েরে প্রধান শিক্ষক জয়নাল আবেদীন বর্তমানে (বরখাস্ত) সাথে একই বিদ্যালয়ের বর্তমানে কামারপুকুর ডিগ্রী কলেজের ছাত্রী দলুয়া চৌধুরী গ্রামের আবু সালেকের মেয়েকে বিয়ের প্রভোলন দেখিয়ে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন। পরবর্তীতে ওই শিক্ষক ছাত্রীকে ধর্ষন করে। ধর্ষণের পর ছাত্রীটি বিয়ের চাপ সৃষ্টি করলে এক পর্যায়ে ওই শিক্ষক যোগাযোগ বন্ধ করে দেয় তার সাথে। পরে বিষয়টি নিয়ে তাল বাহানা শুরু করেন। বিষয়টি জানা জানি হলে ওই শিক্ষকের স্ত্রী ও তার লোকজন ছাত্রীর বাড়ীতে গিয়ে ঘটনাটি নিয়ে বাড়াবাড়ী না করার হুমকি প্রদান করেন। পরে অভিভাবক ও এলাকাবাসী এ ঘটনার বিচার দাবী করলে ওই শিক্ষক আত্ম গোপন করে।
এক পর্যায়ে অভিভাবক এলাকাবাসীসহ শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নেমে পড়ে। পরে ম্যানেজিং কমিটি বাধ্য হয়ে ওই শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত করেন। পরে ছাত্রীটির বাবা বাদী হয়ে সৈয়দপুর থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর ওই শিক্ষক প্রায় ১ বছর আতœগোপনে থাকেন। এ নিয়ে বিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মচারী ও স্কুল কেবিনেট শিক্ষার্থীরা তার বিচার দাবী করে পৃথক পৃথক অভিযোগ দেন উপজেলা নির্বাহী অফিসারসহ বিভিন্ন দপ্তরে। তার বিচার ও বিদ্যালয়ে আর আসতে না পারে সেজন্য এ অভিযোগ দেওয়া হয়। এ বিষয়ে বিদ্যালয় কমিটি থেকে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।
বিদ্যালয়ের তদন্ত কমিটি ও সৈয়দপুর থানা পুলিশ দীর্ঘ তদন্ত শেষে ঘটনার সত্যতা পেয়ে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেন। সুচতুর শিক্ষক জয়নাল আবেদীন নিজেকে বাঁচাতে ওই ছাত্রীকে বিয়ে করে মামলা থেকে রক্ষা পান। বিয়ের পর ওই ছাত্রীকে যৌতুক দাবী, নির্যাতন সহ মারডাং করতে থাকে। শত নির্যাতন সহ্য করে ছাত্রীটি তার বাড়ীতেই সংসার করে আসছিল। এক পর্যায়ে নির্যাতনের মাত্রা আরো বাড়তে থাকে। এ অবস্থায় ১৪/০৯/২০১৮ ইং তারিখে ওই ছাত্রীকে তার পিতার বাড়ী থেকে ৩ লক্ষ টাকা যৌতুক আনতে বলে। ছাত্রীটি টাকা আনতে অস্বীকৃতি জানালে শিক্ষক জয়নাল আবেদীন, তার স্ত্রী আসমা সহ ৫ জন মিলে ওই ছাত্রীকে এলোপাতাড়ীভাবে মারডাং শুরু করে।
ছাত্রীটি নিজেকে বাঁচাতে তার বাড়ী থেকে পালিয়ে এসে নীলফামারী যৌতুক আদালতে মামলা দায়ের করেন। মামলা নং সিআর ৪৪১/১৮। বিয়ের কয়েক মাস পর ওই শিক্ষক অসুস্থ হয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে তার একটি হাত ও পায়ের সমস্যা হয়। যৌতুকের মামলায় হাজির হলে আদালত তাকে জেল হাজতে পাঠায়। কিন্তু ওই শিক্ষক তার অসুস্থ্যতার কারণ দেখিয়ে অল্প দিনের মধ্যে জামিনে বেড়িয়ে আসে। জামিনে বেড়িয়ে আসার পর ওই শিক্ষক কৌশল করেন কিভাবে পুনরায় ওই বিদ্যালয়ে যোগদান করা যায়। তিনি তার সকল তথ্য গোপন রেখে সংরক্ষিত মহিলা আসনের এমপির কাছে সুপারিশ নিয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে আবেদন করেন। আবেদন করার সময় বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষক বরখাস্ত হওয়া প্রধান শিক্ষকের পক্ষে সাফাই গাইছেন। তারা কখনই চায় না বিদ্যালয়টির উন্নয়ন। না হলে যে বিদ্যালয়টির ৭/৮ শ শিক্ষার্থী রয়েছে। এসব শিক্ষার্থীর অভিভাবক হলেন প্রধান শিক্ষক। সেই প্রধান শিক্ষক যদি ছাত্রীকে যৌন হয়রানী বা ধর্ষণের মত জঘন্য কাজ করেন তাহলে শিক্ষার্থীরা কোথায় শিক্ষা নিবেন। আর অভিভাবকরা কিভাবে বিদ্যালয় পাঠাবেন। বর্তমানে ছেলে মেয়েদের নিয়ে অভিভাবকরা আতংকে রয়েছে। তাদের ছেলে মেয়েদেরকে স্কুলে কলেজে পাঠিয়ে সারাক্ষণ দুশ্চিন্তায় থাকেন।
অভিযোগ রয়েছে ওই শিক্ষক ইতিপূর্বেও একটি বিদ্যালয়ে চাকুরীকালীণ সময়ে ছাত্রীকে যৌন হয়রানীর দায়ে অভিযুক্ত হয়ে চাকুরী থেকে চুড়ান্তভাবে বরখাস্ত হন। এ বিদ্যালয়ে যোগদানের পর অনেক ছাত্রীর সাথে অনৈতিক কাজ করেছেন। কিন্তু প্রধান শিক্ষক হওয়ায় কোন শিক্ষার্থী ঘটনাগুলো প্রকাশ করেনি। অভিভাবকসহ সচেতন মহলের দাবী অভিযুক্ত ওই শিক্ষককে আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তি দেওয়া হউক এবং তাকে চাকুরী থেকে চুড়ান্তভাবে অব্যাহতি দেওয়া হউক।
বিপি/আর এল
আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন
আন্তরিকতার সঙ্গে দেশসেবা করতে নবীন সেনা কর্মকর্তাদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান
স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন
সঙ্গীত একাডেমি