ব্যাংক কর্মচারী প্রতারণার ফাঁদে পড়ে অভিযোগ দিয়েও প্রতিকার মিলছে না

এম আর আলী টুটুল, সৈয়দপুর (নীলফামারী) প্রতিনিধি: নীলফামারীর সৈয়দপুরে ব্যাংক ঋণের টাকা পরিশোধ করার পরও ব্যাংক কর্মচারী প্রতারণার ফাঁদে পড়ে এক কৃষক সর্বশান্ত হয়ে পড়েছে। উল্টো ব্যাংকের মামলায় হয়রানী হচ্ছে ওই কৃষক। এ নিয়ে ওই কৃষক সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দিলেও কোন প্রতিকার পায়নি।
মামলা ও কৃষকের অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার পশ্চিম বেলপুকুর কিসামতডাঙ্গী এলাকার মৃত নূরজাহান ওরফে নুর মোহাম্মদের ছেলে দুলাল হোসেন ও দুলু মিয়া যৌথভাবে রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক (রাকাব) হাজারীহাট শাখা থেকে ২০১২ সালে জমি চাষ করার জন্য ৪৮৫ মডেলের একটি ট্রাক্টর ঋণে গ্রহন করেন। ওই ঋণ ৬ বছরে কিস্তিতে পরিশোধ করার বিধান রয়েছে। ঋণ গ্রহনের সময় ডাউন পেমেন্ট বাবদ ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা দেন দুলাল ব্যাংকে। কিন্তু অশিক্ষিত ও নিরক্ষর দুলাল পরে জানতে পারেন ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা ডাউন পেমেন্ট দেখানো হয়েছে। ১ লাখ টাকা আত্নসাৎ করেছেন সুপারভাইজার। আর এ ঋণের বিপরীত জামানত হিসাবে দুলালের কাছ থেকে ১১টি চেকের পাতা ও তার বাবার পৈত্রিক সম্পত্তি একমাত্র সম্বল ২.০৭ একর জমির দলিল ব্যাংকে বন্ধক রেখে ওই ঋণ (ট্রাক্টর) গ্রহন করেন দুলাল।
এসব কাজ করিয়ে দেন দুলালের পার্শবর্তী গ্রামের ব্যাংকের সুপারভাইজার মোনছায়ের আলী (বাচ্চু মিয়া)। ৬ বছর ঋণ পরিশোধের সময় সীমা থাকলেও বাচ্চু মিয়া দুলালকে চাপ দেয় যে, ঋণ পরিশোধ না করলে মামলা হবে। দুলাল ভয়ে প্রায় সব টাকা পরিশোধ করেন। কিছু টাকা বকেয়া থাকে। এর মধ্যে বাচ্চুর সাথে পারিবারিক দ্বন্দ সৃষ্টি হয় দুলালের। বাচ্চু ফন্দি করেন কিভাবে দুলালকে ফাঁসানো যায়। দুলালকে ফাঁসাতে বাচ্চু ব্যাংকের যে চেক দেয়া ছিল দুলালের সেই চেক সরিয়ে ফেলেন এবং দুলালকে বলেন যে, ব্যাংকে তোমার চেক পাওয়া যাচ্ছে না। তোমার চেকের জন্য থানায় জিডি করতে হবে। সেই কথা অনুযায়ী থানায় জিডি করেন। পরে ওই চেকে ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা বসিয়ে ব্যাংক চেকে ডিসঅনার করে উকিল নোটিশ করা হয় এক ব্যক্তিকে দিয়ে। আর ব্যাংকে বন্ধক রাখা জমির দলিল গোপনে বাহির করে দুলালকে বলা হয় তোমার নামে মামলা হচ্ছে তুমি যদি বাঁচতে চাও তাহলে জমি বিক্রি করে টাকা দাও। জমির দলিল আছে আমি ব্যবস্থা করে দেব। বাচ্চুর কথা মতো গ্রামের সহজ সরল দুলাল কোন কিছু না বুঝে জীবন বাঁচাতে বাচ্চুর কথা শুনে রাজি হয়ে যায়। জমির রেজিস্ট্রির দিনে বাচ্চু নিজেই উপস্থিত ছিলেন। জমি ওই এলাকার ৪ ব্যক্তি ক্রয় করেন। জমির মূল্য ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা বাচ্চুর একাউন্টে জমা করেন জমি ক্রেতারা।
জমি রেজিস্ট্রির পর দুলাল টাকা চাইলে বাচ্চু বলেন যে, টাকা আমার একাউন্টে আছে তোমার ব্যাংকের ঋণ পরিশোধ করার পর বাকি টাকা তোমাকে দেওয়া হবে। কিন্তু পরবর্তীতে টাকা না দিয়ে বাচ্চু দুলালকে উল্টো হুমকি প্রদর্শন করেন। বাচ্চু প্রভাবশালী ও অর্থশালী হওয়ায় দুলাল তার বিরুদ্ধে কোন কিছু করতে পারেনি। এদিকে ব্যাংক ব্যবস্থাপক তার নামে জমি বিক্রির মামলা করেছেন। চেকের মামলার ভয়, ঋণের মামলার ভয়, বাচ্চুর হুমকি জমি হারিয়ে এক পর্যায়ে দুলাল পরিবার পরিজন নিয়ে অনাহারে না খেয়ে দিশেহারা হয়ে পড়ে। বিভিন্ন জনের দ্বারে দ্বারে ঘুরে কোন সুবিচার না পেয়ে এক পর্যায়ে হতাশ হয়ে পড়েছেন। পরে তিনি এসব বিষয়ে প্রতিকার চেয়ে রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক রাজশাহীতে অভিযোগ করেন। অভিযোগের পর তদন্ত হলেও কোন কাজ হয়নি। এছাড়া তিনি দুনীর্তি দমন প্রধান কার্যালয়ে ও সৈয়দপুর থানায় লিখিত অভিযোগ করেন।
অভিযোগ দিলেও কেউ তাকে রক্ষায় এগিয়ে আসেনি। বাচ্চু সবাইকে টাকা দিয়ে ঘটনা ধামাচাপা দেয় বলে দুলাল অভিযোগ করেন। এ ব্যাপারে মোনছায়ের আলী বাচ্চুর সাথে কথা বলার জন্য তার বাড়ীতে গেলে তার সাক্ষাত না হওয়ায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। বর্তমানে পরিবারটি নিশ্ব হয়ে পড়েছে। দুলাল বলেন, টিভিতে ও পেপারে অনেক সংবাদ দেখে সরকার ও সরকারি দপ্তরগুলো নিজেই ব্যবস্থা নেয়। কিন্তু আমার বেলায় অভিযোগগুলোর কোন ব্যবস্থা হয়নি।
আমি একজন অশিক্ষিত নিরক্ষর ব্যক্তি হয়ে সাংবাদিকদের মাধ্যমে বলতে চাই ব্যাংক সুপারভাইজার মোনছায়ের আলী বাচ্চুর প্রতারণার ফাঁদ আগে বুঝতে পারেনি। আমি বাঁচতে চাই। আমি বাচ্চুর বিচার চাই। আমি ফিরে পেতে চাই আমার সম্বল জমিটুকু। তাই আমি প্রধানমন্ত্রীসহ সরকারের উচ্চ পর্যায়ের কর্তকর্তাদের কাছে জোর দাবী করছি ন্যায় বিচারের জন্য।
বিপি/কেজে
আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন
আন্তরিকতার সঙ্গে দেশসেবা করতে নবীন সেনা কর্মকর্তাদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান
স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন
সঙ্গীত একাডেমি