‘বনলতা এক্সপ্রেস’ উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী
বাংলাপ্রেস ডেস্ক: বাঁশি বাজিয়ে ও সবুজ পতাকা উড়িয়ে রাজশাহী-ঢাকা রুটের নতুন বিরতিহীন আন্তঃনগর ট্রেন ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ এর উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
বৃহস্পতিবার (২৫ এপ্রিল) বেলা ১১টা ২ মিনিটে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ট্রেনটির উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। ভিডিও কনফারেন্সে তিনি বলেন, আসন্ন ঈদ ও রাজশাহীর আমের কথা মাথায় রেখে এসময়ে ট্রেনটির উদ্বোধন করা হচ্ছে।
এর আগে মঙ্গলবার (২৩ এপ্রিল) দিনগত রাতে ঈশ্বরদী জংশন থেকে রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনে পৌঁছায় বনলতা এক্সপ্রেস। উদ্বোধনের পর ট্রেনটি সেখান থেকে সকাল ১১টা ২ মিনিটে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসে।
এদিকে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন ও রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন। উদ্বোধনের পরে ট্রেনটি ঢাকার উদ্দেশ্যে রেলমন্ত্রী ও যাত্রীদের নিয়ে রওনা দেয়। তবে এ যাত্রায় যাত্রীদের কাছ থেকে কোনও টিকিটের মূল্য নেওয়া হচ্ছে না এমনকি ঢাকা থেকে ফেরার পথেও বিনামূল্যে ট্রেন ভ্রমণের সুযোগ পাচ্ছেন যাত্রীরা।
ট্রেনটি রাজশাহী থেকে প্রতিদিন সকাল ৭টায় ছেড়ে ঢাকায় পৌঁছাবে বেলা ১১টায়। আবার একইদিন ট্রেনটি রাজশাহীর উদ্দেশে ঢাকা ছাড়বে দুপুর দেড়টায়। রাজশাহী রেলস্টেশনে পৌঁছাবে বিকাল সাড়ে পাঁচটায়।
নতুন ট্রেনের ব্যবহৃত ব্রডগেজ কোচ সমূহ এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) এর অর্থায়নে 'বাংলাদেশ রেলওয়ের জন্য মিটারগেজ ও ব্রডগেজ প্যাসেঞ্জার ক্যারেজ সংগ্রহ' শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় ইন্দোনেশিয়া হতে সংগৃহীত হয়েছে। আমদানি করা হয়েছে ১২টি নতুন বগি। এর মধ্যে শোভন চেয়ারের বগি ৭টি, যার আসন সংখ্যা ৬৬৪টি। দু’টি এসি বগিতে আসন থাকবে ১৬০ টি। ট্রেনটিতে মোট আসন সংখ্যা ৯৪৮। ভারত থেকে ২০১৩ সালে আমদানি করা দু’টি ইঞ্জিন দিয়ে চলাচল করবে ট্রেনটি।
এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, এই ট্রেনটিতে ১২টি কোচ থাকবে। এর আসন সংখ্যা ৯২৮। এর মধ্যে এসি চেয়ার ১৬০টি, শোভন চেয়ার ৬৪৪টি, খাবার গাড়িতে আসন ১০৮টি এবং পাওয়ার কারে ১৬টি।
এছাড়া এই ট্রেনটিতে বাংলাদেশ রেলওয়ের প্রথম নিজস্ব ক্যাটারিং অ্যান্ড ট্যুরিজম সার্ভিসেস (বিআরসিটিএস) দ্বারা খাবার সরবরাহ করা হবে। খাবার মূল্য ১৫০ টাকাসহ শোভন চেয়ারের মূল্য ৪২৫ টাকা এবং এসি চেয়ারের মূল্য ৮৭৫ টাকা।
দেশের প্রথম ও সর্বাধুনিক হাইস্পিড ট্রেন হচ্ছে ‘বনলতা এক্সপ্রেস’। কিন্তু রাজশাহী-ঢাকা রুটের জন্য এ একজোড়া ট্রেন পেয়েছে পুরোনো দু’টি ইঞ্জিন। এগুলো ২০১৩ সালে ভারত থেকে আমদানি করা। এ ইঞ্জিন ঘণ্টায় সর্ব্বোচ্চ গতিবেগ ৯০ থেকে ৯৫ কিলোমিটার। আর বনলতার সর্বাধুনিক হাইস্পিড কোচের গতিবেগ ঘণ্টায় ১৪০ কিলোমিটার। এতে শেষ পর্যন্ত প্রত্যাশিত গতিবেগ উঠবে না রাজশাহী-ঢাকা রুটের প্রথম ও একমাত্র বিরতিহীন এ ট্রেনের। নতুন ইঞ্জিন ও মজবুত ট্র্যাক পেলে এটি প্রতি মিনিটে আড়াই কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে সক্ষম হতো। ৩৪৩ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে ট্রেনটি ৪ থেকে সাড়ে ৪ ঘণ্টায় পৌঁছাতো গন্তব্যে।
বিপি/কেজে
আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন
আন্তরিকতার সঙ্গে দেশসেবা করতে নবীন সেনা কর্মকর্তাদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান
স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন
সঙ্গীত একাডেমি