বনানী অগ্নিকাণ্ড : মারা গেল সেই ফায়ারম্যান সোহেল রানা

জাতীয় ডেস্ক: অন্যের জীবন বাঁচাতে নিজের জীবন বাজি রাখা ফায়ার কর্মী সোহেল রানা সবাইকে কাঁদিয়ে না ফেরার দেশে চলে গেছেন। সোমবার (৮ এপ্রিল) রাত ২টার দিকে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করে ফায়ার সার্ভিসের কন্ট্রোল রুমের দায়িত্বরত কর্মকর্তা মাহফুজ গণমাধ্যমকে বলেন, রাত ২টা ১৭ মিনিটের দিকে সোহেল শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার বাড়ি কিশোগঞ্জ জেলায়।
বনানীর এফ আর টাওয়ারের আগুন নেভাতে ও আটকে পড়া ব্যক্তিদের উদ্ধারের কাজে অংশ নিয়েছিলেন কুর্মিটোলা ফায়ার স্টেশনের ফায়ারম্যান সোহেল রানা। সিনিয়র স্টেশন ম্যানেজার বজলুর রশীদের সঙ্গে ঘটনাস্থলে এসেছিলেন তিনি।
বজলুর রশীদ জানান, আমরা ঘটনাস্থলে পৌঁছেই বড় স্বয়ংক্রিয় মই (লেডার) দিয়ে ভবনে পানি দিচ্ছিলাম। লেডারে করে আটকে পড়া ব্যক্তিদের নামিয়ে আনছিলাম। সোহেল রানা একটি লেডারে ছিল। একটি লেডারে সর্বোচ্চ চার থেকে ছয়জন লোক ধরে। এর বেশি আনা যায় না। সোহেল রানা এবং আরও দু’জন ফায়ারম্যান একটি লিডার নিয়ে আটকে পড়া কয়েকজনকে উদ্ধার করে। কিন্তু লেডারে জায়গা হচ্ছিল না। আটকে পড়াদের জায়গা করে দিতে সোহেল রানা লেডারের সিড়ি দিয়ে নিচে নেমে আসছিল। কিন্তু লেডারটি যখন স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিচের দিকে নেমে আসছিল, তখনই হঠাৎ করে সোহেল রানার পা মইয়ের ভেতরে আটকে গিয়ে ভেঙে কয়েক ভাগ হয়ে যায়। একই সময়ে চাপ লেগে তার পেট ছিদ্র হয়ে যায়। তার পেটের নাড়ি ছিদ্র হয়ে যায়। ঘটনার পর ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা রানাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। প্রধানমন্ত্রীর সহায়তায় উন্নত চিকিৎসার জন্য শুক্রবার (৫ এপ্রিল) সন্ধ্যা পৌনে ৭টায় এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে সিঙ্গারপুর পাঠানো হয় সোহেলকে।
সোহেল রানার বাড়ি কিশোরগঞ্জের ইটনা উপজেলায়। বাবা নুরুল ইসলাম ও মা হালিমা খাতুন। রানার আহতের খবরে পুরো পরিবার ঢাকায় চলে আসে। কুর্মিটোলা ফায়ার স্টেশনে তাদের রাখা হয়। চার ভাই একবোনের মধ্যে রানা দ্বিতীয়। সোহেল রানা ছোটবেলা থেকেই মানুষের বিপদে-আপদে এগিয়ে আসতেন বলে জানান তার মামা। ফায়ার সার্ভিসে ফায়ারম্যান পদে ২০১৫ সালে যোগ দেন রানা।
বিপি/আর এল
আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন
আন্তরিকতার সঙ্গে দেশসেবা করতে নবীন সেনা কর্মকর্তাদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান
স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন
সঙ্গীত একাডেমি