বিশেষ বই ছুয়েই শিক্ষার আলো ছড়াচ্ছেন দৃষ্টি প্রতিবন্ধি ফজলুল হক
মামুনুর রশিদ(মিঠু),লালমনিরহাট : দৃষ্টি প্রতিবন্ধি ফজলুল হক (২৫) প্রতিবন্ধকতা জয় করে ব্রেল বই ছুয়েই শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিচ্ছেন। লালমনিরহাট সদর উপজেলার চর খাটামারী নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ শিক্ষার্থীদের বিনা পারিশ্রমিকের ভিত্তিতে পাঠদান দিয়ে আসছেন এই দষ্টি প্রতিবন্ধি।
জেলা সদরের কুলাঘাট ইউনিয়নের চর খাটামারী গ্রামের মুজাহার আলীর ছেলে ফজলুল হক। জন্মের পর ফজলুর অন্ধত্তের কথা জানতেন না বাবা মুজাহার আলী ও মা ফুলমালা বেগম। বড় হওয়ার সাথে সাথে যখন খাবার বা খেলনা ফজলুর সামনে দিলে সে হাত দিয়ে এখানে সেখানে খুজতো তখনি ফজলুর বাবা-মা জানতে পায় তাদের ছেলে অন্ধ, এমনটি জানিয়েছেন দৃষ্টি প্রতিবন্ধি ফজলুর বাবা। অর্থাভাবে ফজলুর চিকিৎসা সম্ভব হয়নি। দৃষ্টি প্রতিবন্ধি হয়েও সাধারন ছাত্র-ছাত্রীদের পাঠদান কওে যাচ্ছেন ব্রেল বই ছুয়ে।
২০০৫ সালে আর ডি আর এস এর রাইটু সার্ভাইব থেকে বিনা খরচে শিক্ষার সুযোগ পান প্রতিবন্ধি ফজলুল হক। ২০০৯ সালে অনাকাঙ্খিত কারন বসত সেখান থেকে চলে আসেন বাড়িতে। তবে ৪ বছরেই ভালো ভাবে রপ্ত করে নেন ইংরেজী ব্যাকরণ। ইংরেজী ব্যাকরন জানা ফজলু যখন অহেতুক ঘোরাফেরা করে সময় নষ্ট করছিলেন ঠিক তখনি চর খাটামারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবদুস সামাদ বীনা পারিশ্রমিকের ভিত্তিতে বাচ্চাদের পড়ানো সুজোগ করে দেন ২০১৩ সালে। বছর দুয়েক পরে স্কুল প্রাঙ্গনের পাশেই স্থাপিত হয় চর খাটামারী নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের অনুরোধে বিনা পারিশ্রমিকের ভিত্তিতে প্রাথমিকের পাঠদান শেষ করে নিম্ন মাধ্যমিকের ছাত্র-ছাত্রীদের পাঠদান শুরু করেন ফজলু। বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মইনুল ইসলাম, রাসেল, তারেকসহ বেশকজনের নিকট ফজলুর পাঠদানের ধরন সম্পর্কে জানতে চাইলে তারা বলে, ফজলু ছার অনেক ভালোভাবে আমাদের পড়ায় সে তার বিশেষ বই হাত দিয়ে ছুয়ে আমাদের পড়ালেও আমাদের বুঝতে কোন সমস্যা হয় না। ফজলু স্যার অনেক যত্নসহকারে আমাদের পড়ায়। ফজলু স্যারের ক্লাস আমাদের অনেক ভালো লাগে।
স্কুলটির প্রধান শিক্ষক বলেন, শিক্ষক সংকটের কারনে ফজলু স্যারকে অনুরোধ করি, তিনি খবই আন্তরিক।বাচ্চাদের অনেক যত্ন সহকারে পাঠদান করেন।
চর খাটামারী বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুস সামাদ বলেন, ফজলু আমাদের গ্রামের সন্তান,আর আমার স্কুলেই ফজলুর হাতেখরি, আমরা গর্বিত। ফজলুল হকের সাথে আলাপচারিতার এক পর্যায়ে সে বলে, আমি অন্ধ এতে আমার বিন্দুমাত্র দুঃখ নেই, আমি বিনা পারিশ্রমিকে অজপাড়াগায়ের ছেলে-মেয়েদের পাঠদান করছি কারন আমি যানি আমার এই এলাকার ছাত্র-ছাত্রীদের শহরে থেকে ভালো স্কুলে পড়ার সামর্থ নেই। ভালো মাষ্টার দ্বারা ইংরেজী প্রাইভেট পড়ানোরও সামর্থ নেই। আমি আমার সবটুকু দিয়ে চেষ্টা করছি শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দেওয়ার। বাচ্চারা আমাকে স্বাভাবিক ভাবেই নিয়েছে মনে হয়, ওরা সবাই আমাকে অনেক ভালোবাসে দৃষ্টি শক্তি না দিলেও সৃষ্টিকর্তা আমাকে এতোটুকু বোঝার ক্ষমতা দিয়েছেন।
বিপি/আর এল
আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন
আন্তরিকতার সঙ্গে দেশসেবা করতে নবীন সেনা কর্মকর্তাদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান
স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন
সঙ্গীত একাডেমি