৪ মে ২০২৬

বিদ্যুৎ বিভ্রাটে অতিষ্ঠ লক্ষ্মীপুর পৌর এলাকার বাসিন্দারা

Logo
বাংলা প্রেস প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১২:৪০ পিএম
বিদ্যুৎ বিভ্রাটে অতিষ্ঠ লক্ষ্মীপুর পৌর এলাকার বাসিন্দারা
সুলতানা মাসুমা, লক্ষ্মীপুর জেলা প্রতিনিধি : লক্ষ্মীপুর পৌরসভার বিভিন্নস্থানে প্রতিনিয়ত বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা দেয়। দিনে ও রাতে মিলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ওই সব এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকে। এতে তীব্র গরম এবং রমজান মাসে দুর্ভোগের মধ্যে পড়ে পৌর এলাকার বাসিন্দারা। বিদ্যুৎ ব্যবহারকারীদের অভিযোগ, গরমের সময়টাতে বিদ্যুৎ যাওয়া-আসার মধ্যেই থাকে। এছাড়া বাতাস বা বৃষ্টি হলে দীর্ঘ সময় থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। এ জন্য অতিষ্ঠ গ্রাহকরা বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষকে দায়ি করছেন। তবে বিদ্যুৎ বিভাগ বলছে, পুরনো বৈদ্যুতিক লাইন এবং ঝড়বৃষ্টির সময় লাইনে গাছের ডাল পড়ার কারনে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখতে হয়। পৌরসভার ১১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. আবদুল্লা, সোহেল আলম সহ অনেকে বলেন, বৈশাখ মাসের শুরুতে লক্ষ্মীপুরে বৃষ্টি এবং হালকা বাতাস হয়। এতে ৮-১০ ঘণ্টা করে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ ছিলো। সর্বশেষ গত শুক্রবারে বিকেলে সাড়ে ৫ টার দিকে ঝড়ো বাতাসের সাথে বৃষ্টি শুরু হলে বিদ্যুৎ বন্ধ হয়ে যায়। রাত ১ টার পর বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হয়। তাদের অভিযোগ, ঝড় বৃষ্টিতে বিধ্বস্ত বৈদ্যুতিক লাইন মেরামতে কর্তৃপক্ষের অবহেলা থাকে। তাই দীর্ঘ সময় তাদেরকে বিদ্যুৎ ছাড়া থাকতে হয়। পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের হাসপাতাল সড়কের বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম বলেন, মঙ্গলবার (২৬ এপ্রিল) সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত তাদের এলাকায় বিদ্যুৎ ছিলো না। এতে তীব্র গরম এবং রমজান মাসে তাদেরকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। ১১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা নিজাম উদ্দিন বলেন, সন্ধ্যা থেকে রাত ৩ টা পর্যন্ত আমাদের এলাকা অন্ধকারে ছিলো৷ এর মধ্যে দুইবার বিদ্যুৎ এসে আবার চলে গেছে। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় শিশু বাচ্চাদের নিয়ে ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে। জানা গেছে, লক্ষ্মীপুর পৌর এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি)। আবাসিক এবং বাণিজ্যিক মিলিয়ে প্রায় ৩৭ হাজার গ্রাহক রয়েছে তাদের। পৌর এলাকাকে ৭ টি ফিডারে ভাগ করা হয়েছে। লক্ষ্মীপুরে বিদ্যুতের কোন গ্রীড না থাকায় নোয়াখালীর চৌমুহনী গ্রীড থেকে বিদ্যুৎ আনতে হয়। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) এর লক্ষ্মীপুর কার্যালয়ের বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মিঠু কুমার বিশ্বাস বলেন, গরমকালে বিদ্যুতের ব্যবহার বেশি হয়। চাহিদার থেকেও বিদ্যুতের উৎপাদন বেশি হচ্ছে। কিন্তু বিদ্যুৎ সরবরাহ লাইনে প্রায় সময় ক্রুটি দেখা দেয়। তাই মেরামত না করা পর্যন্ত ওইসব এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকে। লাইনে কেন ক্রুটি দেখা দিলে সাথে সাথেই আমরা সেটি খুঁজে বকর করে মেরামত করি। অনেক সময় রাত জেগেও আমাদের কর্মীরা কাজ করে যাচ্ছে। তিনি বলেন, এ সময়টাতে ঝড়বৃষ্টি হয়। বিদ্যুৎ লাইনের আশেপাশে প্রচুর পরিমাণে গাছপালা থাকায় বাতাসে ডালপালা বৈদ্যুতিক লাইনের উপর পড়লে বিদ্যুৎ বন্ধ হয়ে যায়। এগুলো খুঁজে বের করতে সময় লাগে। এতে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকে। তিনি আরও জানান, নোয়াখালীর চৌমুহনী গ্রীড থেকে বিদ্যুতের প্রধান যে লাইনটি লক্ষ্মীপুরে এসেছে, সেটির দৈর্ঘ্য ৩০ কি. মি.। ২০ বছর আগের পুরনো লাইনটিতে ক্রটি দেখা দেয়। ফলে মেরামত না করা পর্যন্ত পৌর এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ দেওয়া যায় না। নতুন আরেকটি লাইন নির্মাণ কাজ চলছে। এছাড়া লক্ষ্মীপুর শহরের পাশেই যাদৈয়া গ্রামে একটি গ্রীড বসানোর কাজ শুরু হয়েছে। সেটি সম্পন্ন হলে হলে বিদ্যুৎ বিভ্রাট কমে আসবে।   বিপি/কেজে
[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]

মন্তব্য (0)

আলোচনায় যোগ দিন

আপনার মতামত শেয়ার করতে এবং অন্যান্য পাঠকদের সাথে যুক্ত হতে দয়া করে লগইন করুন।

এখনো কোন মন্তব্য নেই

Be the first to share your thoughts on this article!

আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন

স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন


স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন

সঙ্গীত একাডেমি


সঙ্গীত একাডেমি