১২ আগস্ট ২০২৬

বাংলাবান্ধা ইমিগ্রেশনে কোন পরীক্ষা ছাড়াই অবাধে যাতায়াত করছে ড্রাইভার-হেলপাররা

Logo
বাংলা প্রেস প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১২:৩৯ পিএম
বাংলাবান্ধা ইমিগ্রেশনে কোন পরীক্ষা ছাড়াই অবাধে যাতায়াত করছে ড্রাইভার-হেলপাররা

হাফিজুর রহমান হাবিব, তেঁতুলিয়া পঞ্চগড় থেকে : দোর গোড়ায় থাবার অপেক্ষায় করোনা ভাইরাস। ইতিমধ্যে করোনা থাবায় প্রতিবেশী ভারত। ভয়ংকরভাবে ছড়াচ্ছে আক্রান্তের সংখ্যা। সরকারের রোগতত্ত, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) এর তথ্যমতে, বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া করোনা ভাইরাসের প্রভাবে বাংলাদেশ এখন উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে। বারবার সংবাদমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলেও কোন ভ্রুক্ষেপ নেই দেশের চতুর্দেশীয় বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরের কর্তৃপক্ষের। শুধুমাত্র ইমিগ্রেশনের পাসপোর্টযাত্রীদের করোনা ভাইরাসের থার্মাল স্ক্যানার দিয়ে পরীক্ষা করা হলেও বাদ যাচ্ছে বন্দরের বিভিন্ন যানবাহনের চালকরা।

বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল ও ভুটান এই চারটি দেশের সাথে ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট ছাড়াও ব্যবসা-বাণিজ্যে অন্যতম ব্যস্ততম এ স্থলবন্দর। পাথরসহ বিভিন্ন পণ্য আমদানি-রপ্তানী করণে যাতায়াত করছে ট্রাক ও বিভিন্ন যানবাহন। বন্দরে গিয়ে দেখা যায় উন্নত মানের যন্ত্রপাতি নেই মেডিকেল টিমটির কাছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ আর শুধু হ্যান্ড থার্মাল স্ক্যানার দিয়ে পাসপোর্টধারী যাত্রীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হচ্ছে। এর বাইরে বাদ যাচ্ছে চতুর্দেশীয় ব্যস্ততম এ স্থলবন্দরের ব্যবসা-বাণিজ্যের বিভিন্ন যানবাহনের ড্রাইভার ও হেল্পার-রা। এতে করে উদ্বিগ্ন বন্দরের সচেতন নাগরিক ও সাধারণ ব্যবসায়ীরা।

স্থানীয় হান্নান, মাসুদসহ বেশ কয়েকজন স্থলবন্দরের স্থানীয় লোকজন এ প্রতিবেদককে জানান, ভারত ও ভুটানের পাথরসহ বিভিন্ন পন্য নিয়ে ভারত ও ভূটান থেকে গাড়ীর চালকরা আসছেন। ইতিমধ্যে ভারতে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার খবর জানতে পেরেছি। এসব যানবাহনের চালক-হেল্পারদের মধ্যে কেউ করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত কীনা শনাক্তকরণে তা এখন পর্যন্ত বসেনি কোনো মেডিকেল টিম। তাছাড়া এসব গাড়ীর চালকরা স্থানীয় বিভিন্ন হোটেল-রেস্টুরেন্টে অবস্থান নিয়ে খাবার খাচ্ছেন। সম্প্রতি ভারতে করোনা ভাইরাস প্রাদুর্ভাবের কারনে এসব চালক-হেল্পারদের নিয়ে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

বিষয়টি বারবার জেলা সিভিল সার্জন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষন করা হলেও কোন পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি। করোনা পরীক্ষায় আরো উন্নতমানের থার্মাল স্ক্যানার বসানোর দাবী জানান তারা। স্থলবন্দর ঘুরে দেখা যায়, ইমিগ্রেশনে ভবনের একটি কক্ষে করোনা ভাইরাস পরীক্ষা করা হচ্ছে। পরীক্ষা করছে ডা. রায়হান কবির মেডিকেল অফিসার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স তেঁতুলিয়া, সহকরী স্বাস্থ্য পরিদর্শক জমির উদ্দিন, আব্দুল জলিল সহকারী পরিদর্শক। গত ২৮/০১/২০২০ইং থেকে ০৩/০৩/২০২০ পর্যন্ত সর্ব মোট যাত্রী চেকআপ করা হয় ৮৬৩৫ জন। এখানে শুধু ইমিগ্রেশনে পাসপোর্ট যাত্রীদের মৌখিক জিজ্ঞাসাবাদ ও থার্মাল স্ক্যানার দিয়ে করোনার পরীক্ষা করানো হচ্ছে। বাংলাবান্ধা ইমিগ্রেশন চেকপোষ্টে হ্যান্ড থামার্ল স্ক্যানার দিয়ে প্রতিদিন ২০০/২৫০ জন পাসপোর্টধারীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হচ্ছে। এ পরীক্ষা থেকে বাদ পড়ছে প্রতিদিন স্থলবন্দরে পণ্যবাহী ২শ-৩শ ট্রাকের ড্রাইভার ও হেলপার। এ বিষয়ে তেঁতুলিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডা. রায়হান কবির জানান, আমাদের শুধু পাসপোর্ট যাত্রীদের করোনা পরীক্ষার কথা বলা হয়েছে। ভারতে করোনা ভাইরাস আক্রান্তের খবরে আমরাও আতঙ্কবোধ করছি। বন্দরের সচেতন নাগরিকরা জানান, পরীক্ষা কেন্দ্রটি যদি ইমিগ্রেশনের চেকপোস্টে বসানো হতো কিংবা আলাদাভাবে চালক-হেল্পারদের জন্য বসানো যেত। তাহলে ভারত, নেপাল, ভুটান হতে আসা সকল স্তরের পরীক্ষা নিশ্চিত করার দাবি তাদের।

এ বিষয়ে ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট ভারপ্রাপ্ত পরিদর্শক আলতাফ হোসেন জানান, প্রতিদিন পাসপোর্টধারী যাত্রীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার পর আমরা তাদের ইমিগ্রেশন কার্যক্রম সম্পন্ন করছি। তবে ভারত থেকে আসা ট্রাকচালকদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার দায়িত্ব স্থলবন্দর ও স্বাস্থ্য বিভাগের। ট্রাক চালকরা স্থলবন্দর থেকে কার পাস নিয়ে যাতায়াত করছে। বন্দরের ব্যবস্থাপক মামুন সোবহান বলেন, বন্দরের যানবাহনের চালক-হেল্পারদের করোনা পরীক্ষার জন্য আলাদা মেডিকেল ক্যাম্প গঠনের লক্ষে গত ৪ মার্চ বন্দরে জেলা প্রশাসকের সভাপতিত্বে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের উপস্থিতিতে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। কিন্তু আলোচনা সভার ৪ দিন পেরিয়ে গেলেও চালক-হেল্পারদের করোনা

পরীক্ষায় স্থাপন করা হয়নি কোন মেডিকেল টিম। যেখানে বিশ্বজুড়ে মহামারি রূপ নিয়েছে এই ভাইরাস, সীমান্তের পাড়ের দেশ ভারতে থাবা দিয়েছে করোনা ভাইরাস। সেখানে কর্তৃপক্ষের দায়িত্বহীনতাকে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছে বন্দরের এলাকার সচেতনমহল।

রবিবার দুপুরে এ বিষয়ে জেলা সিভিল সার্জন ডাঃ ফজলুর রহমান বলেন, করোনা ভাইরাস নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। বাংলাবান্ধায় ট্রাকের চালক ও হেলপারদের পরীক্ষা করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। গত ৪ মার্চ বন্দরে ট্রাকের চালক -হেল্পারদের করোনা ভাইরাস পরীক্ষায় আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ বিষয়ে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক কাজী মাহমুদুর রহমান ডাবলু বলেন, করোনা ভাইরাস সম্পর্কে সচেতন হতে হবে এবং অপরকে সচেতন করতে হবে। আতংকিত না হয়ে সকলে এর প্রতিরোধ সম্পর্কে সতেন হতে হবে।

বিপি/আর এল

[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]

মন্তব্য (0)

আলোচনায় যোগ দিন

আপনার মতামত শেয়ার করতে এবং অন্যান্য পাঠকদের সাথে যুক্ত হতে দয়া করে লগইন করুন।

এখনো কোন মন্তব্য নেই

Be the first to share your thoughts on this article!

সঙ্গীত একাডেমি


সঙ্গীত একাডেমি