৫ মে ২০২৬

আলোচিত 'ডিজিটাল নিরাপত্তা বিল' এ স্বাক্ষর করেছেন রাষ্ট্রপতি !

Logo
বাংলা প্রেস প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১২:৩৭ পিএম
আলোচিত 'ডিজিটাল নিরাপত্তা বিল' এ স্বাক্ষর করেছেন রাষ্ট্রপতি !

বাংলাপ্রেস অনলাইন: জাতীয় সংসদে পাস হওয়া ডিজিটাল নিরাপত্তা বিলে স্বাক্ষর করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ।

সোমবার বহু আলোচিত ওই বিলে স্বাক্ষর করেন তিনি। রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. জয়নাল আবেদীন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষরের পর কোনো বিল আইন হিসেবে গণ্য হয়। এখন এটি গেজেট আকারে প্রকাশ করবে সরকার। এর আগে গত বুধবার ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনসংক্রান্ত নথি বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির দফতরে পাঠানো হয়। মঙ্গলবার এ বিলসংক্রান্ত নথিতে স্বাক্ষর করেন জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী।

বিভিন্ন মহলের আপত্তির মধ্যে গত ১৯ সেপ্টেম্বর দশম জাতীয় সংসদের ২২তম অধিবেশনে পাস হয় বহুল আলোচিত ডিজিটাল নিরাপত্তা বিল। এটিসহ ওই অধিবেশনে ১৮টি বিল পাস হয়। আইনটি পাস হওয়ার প্রতিবাদে সম্পাদকরা মানববন্ধন করার ঘোষণা দেন। এর পর তাদের সঙ্গে বৈঠকও করেন আইন, তথ্য এবং ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী। সেখানে গণমাধ্যমের আপত্তিতে থাকা ধারাগুলো আলাপ–আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের আশ্বাস দেয়া হয়। ৩ অক্টোবর গণভবনে সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, অপরাধী মন না হলে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নিয়ে উদ্বেগের কারণ নেই। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে বলা হয়েছে, আইনটি কার্যকর হলে তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারা বাতিল হবে। তবে এ আইনটিতেই বিতর্কিত ৫৭ ধারার বিষয়গুলো চারটি ধারায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রাখা হয়েছে।

এ ছাড়া পুলিশকে পরোয়ানা ও কারও অনুমোদন ছাড়াই তল্লাশি এবং গ্রেফতারের ক্ষমতা দেয়া হয়েছে। আইনের ১৪টি ধারার অপরাধ হবে অজামিনযোগ্য। বিশ্বের যে কোনো জায়গায় বসে বাংলাদেশের কোনো নাগরিক এ আইন লঙ্ঘন হয়, এমন অপরাধ করলে তার বিরুদ্ধে বিচার করা যাবে। এ আইনের অধীনে সংগঠিত অপরাধ বিচার হবে ট্রাইব্যুনালে। অভিযোগ গঠনের ১৮০ কার্যদিবসের মধ্যে মামলা নিষ্পত্তি করতে হবে।

এ সময়ে সম্ভব না হলে সর্বোচ্চ ৯০ কার্যদিবস সময় বাড়ানো যাবে। আইনে বলা হয়েছে- তথ্য অধিকারসংক্রান্ত বিষয়ের ক্ষেত্রে তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯-এর বিধানাবলি কার্যকর থাকবে। আইনে ডিজিটাল মাধ্যমে আক্রমণাত্মক, মিথ্যা বা ভীতি প্রদর্শক তথ্য-উপাত্ত প্রকাশ; মানহানিকর তথ্য প্রকাশ; ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত; আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটানো, অনুমতি ছাড়া ব্যক্তির তথ্য সংগ্রহ ও ব্যবহার ইত্যাদি বিষয়ে অপরাধে জেল-জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। বিতর্কিত ৫৭ ধারার বিষয়গুলো এ আইনেও চারটি ধারায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রাখা হয়েছে। আইনের ১৪টি ধারার অপরাধ হবে অজামিনযোগ্য। বিশ্বের যে কোনো জায়গা থেকে কোনো বাংলাদেশি এই আইন লঙ্ঘন করলে তার বিচার করা যাবে।

গত ২৯ জানুয়ারি ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের খসড়া অনুমোদন করেছিল মন্ত্রিসভা। তখন থেকে এ আইনের বেশ কয়েকটি ধারা নিয়ে সাংবাদিকসহ বিভিন্ন পক্ষ আপত্তি জানিয়ে আসছে। সম্পাদক পরিষদ এ আইনের ৮টি (৮, ২১, ২৫, ২৮, ২৯, ৩১, ৩২ ও ৪৩) ধারা নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে আপত্তি জানিয়েছিল। সম্পাদক পরিষদ মনে করে, এসব ধারা বাকস্বাধীনতা ও স্বাধীন সাংবাদিকতার পথে বাধা হতে পারে।

বাংলাপ্রেস/আর এল
[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]

মন্তব্য (0)

আলোচনায় যোগ দিন

আপনার মতামত শেয়ার করতে এবং অন্যান্য পাঠকদের সাথে যুক্ত হতে দয়া করে লগইন করুন।

এখনো কোন মন্তব্য নেই

Be the first to share your thoughts on this article!

স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন


স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন

সঙ্গীত একাডেমি


সঙ্গীত একাডেমি