৪ মে ২০২৬

'আগে দেখবো, টিকা পরে নেবো"

Logo
বাংলা প্রেস প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১২:৩৯ পিএম
'আগে দেখবো, টিকা পরে নেবো"
নিজস্ব প্রতিবেদক: যুক্তরাষ্ট্রে গণহারে মহামারী করোনাভাইরাসের টিকা দেওয়া শুরু হলেও টিকা গ্রহণে এখনো মানসিকভাবে প্রস্তুত নন প্রবাসী বাংলাদেশিরা। টিকা নেওয়ার ইচ্ছা থাকলেও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার বিষয় নিয়ে অনেকের মনে চাপা আতঙ্ক বিরাজ করছে। সোমবার থেকে মার্কিন জনগণ ফাইজার-বায়োএনটেকের ভ্যাকসিন নিতে শুরু করেছে। গণহারে ফাইজার-বায়োএনটেক উদ্ভাবিত করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন প্রয়োগ শুরুর বিষয় নিয়ে বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের প্রবাসীদের সাথে কথা বললে অধিকাংশ প্রবাসী একবাক্যেই বলেন, 'আগে দেখবো, টিকা পরে নেবো"। ইতোমধ্যে প্রতিটি অঙ্গরাজ্যেই প্রথম দফায় ৩০ লাখ ডোজ টিকা পাঠানো হয়েছে। মাইনাস ৮০ ডিগ্রি তাপমাত্রায় সংরক্ষণ করতে হয় বলে ড্রাই আইসে মুড়িয়ে ট্রাকে এবং বিমানে করে স্থানীয় সময় ১৩ ডিসেম্বর রোববার ভোর থেকে ১৪৫টি কেন্দ্রে করোনার এই টিকা পাঠানো হয়। মঙ্গল ও বুধবার আরও ৪৯১টি কেন্দ্রে ফাইজারের এ করোনার টিকা পৌঁছে দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন বিতরণ তদারকি কর্মকর্তা জেনারেল গুসটেভ পেরনা। তিনি আরো জানান, প্রথম দফায় ৩০ লাখ মানুষকে টিকার আওতায় আনা হচ্ছে। আগামী বছরের মার্চের মধ্যে ১০ কোটি মার্কিনিকে এ টিকার আওতায় আনতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ফাইজারের এ করোনার টিকা ৯৫ শতাংশ কার্যকর প্রমাণিত হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফডিএ) জরুরিভিত্তিতে দেশটিতে অনুমোদন দেওয়া হয়। মার্কিন বিশেষজ্ঞরাও ফাইজার-বায়োএনটেকের কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন জরুরি অনুমোদন প্রদানের পক্ষে সমর্থন দিয়েছেন। এদিকে, করোনা ভাইরাসের ভ্যাকসিন পাওয়া গেলেও তা নিতে অনীহা প্রকাশ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ৩০ শতাংশ মানুষ! পিআর ফার্ম বোসপারের জরিপ বলছে, দেশটির এক-তৃতীয়াংশ প্রাপ্ত বয়স্ক জানিয়েছেন, ভাইরাস প্রতিরোধে ভ্যাকসিনের প্রতি তাদের আস্থা নেই। জরিপের পেছনে নিজেদের উদ্দেশের কথা জানাতে গিয়ে বোসপারের প্রধান কর্মকর্তা কার্টিস স্পারার গণপমাধ্যমকে বলেন, লকডাউনের বিরুদ্ধে দেখছি অনেকে আন্দোলন করছেন। মানুষ আসলে কী ভাবছে, সেটি জানতে আমরা এমন জরিপ চালাই। সামগ্রিক চিত্র নিয়ে আমি হতাশ। বাজি ধরে বলতে পারি আরও অনেক মানুষ ভ্যাকসিন নেবে না। জরিপটি হয়েছে এপ্রিলের শেষ দিকে, ২৮ এবং ২৯ তারিখ। বাজার জরিপকারী সংস্থা প্রোপেলার বোসপারের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করেছে। তারা ১ হাজার প্রাপ্ত বয়স্ক ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলেন। ভ্যাকিসন তৈরি হলে তারা নিতে চান কি না, এমন প্রশ্নের পাশাপাশি অংশগ্রহণকারীদের কাছে জানতে চাওয়া হয়, যারা ভ্যাকসিন নেবেন তাদের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি কী? ভ্যাকসিনের প্রতি মার্কিনীদের অনীহা নতুন কিছু নয়। স্পারার বলছেন, করোনা আসার পরেও এই দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টাচ্ছে না। যাদের বয়স ১৮ থেকে ২৪ বছর তাদের মধ্যে ৫৭.৬ শতাংশ ভ্যাকসিন নিতে চান। তরুণেরা এই রোগে কম আক্রান্ত হন, এমন চিন্তা থেকে অনেকে ভ্যাকসিন নিতে চান না বলে ধারণা স্পারারের। ভ্যাকসিন নেয়া কিংবা না নিতে চাওয়াদের মধ্যে শিক্ষাগত যোগ্যতারও একটা পার্থক্য দেখা গেছে। মাস্টার্স পাস করা মানুষদের ৮১ শতাংশ ভ্যাকসিন নিতে চান। গোটা পৃথিবীতে প্রায় শতাধিক কোম্পানি করোনা ভাইরাসের ভ্যাকসিন আবিষ্কারের চেষ্টা করছে। গত মার্চে ব্রিটেনের অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি তাদের চাডক্স১ এনকভ-১৯ ভ্যাকসিনের হিউম্যান ট্রায়াল দিয়েছে। ট্রায়াল দিয়েছে চীনও। আমেরিকায় এ নিয়ে একাধিক কোম্পানি ট্রায়াল দিল। মার্কিন প্রশাসনের সহযোগিতায় প্রথম ট্রায়াল শুরু করে মার্ডানা কোম্পানি। যুক্তরাষ্ট্রের বাংলাদেশি অধুষ্যিত অঙ্গরাজ্য নিউ ইয়র্ক, নিউ জার্সি, ক্যালিফোর্নিয়া, ফ্লোরিডা, টেক্সাস, ম্যাসাচুসেটস, ভার্জিনিয়া, পেনসিলভানিয়া, জর্জিয়া, কানেকটিকাট এবং ওয়াশিংটন ডিসি'র প্রায় পঁচিশ জন প্রবাসী বাংলাদেশিদের সাথে আলাপ হয় সোমবার থেকে গণহারে ফাইজার-বায়োএনটেক উদ্ভাবিত করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন প্রয়োগ শুরুর বিষয় নিয়ে। অধিকাংশ প্রবাসী একবাক্যেই বলেন, 'আগে দেখবো, টিকা পরে নেবো'। এদের প্রত্যেকেরই মতামত তারা ফাইজারের টিকার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ফলাফল না দেখে সহসাই টিকা নেওয়ার কোন সিদ্ধান্ত নেবেন না। উল্লেখ্য, গত বছরের ডিসেম্বরে চীনের উহান শহরে প্রথম শনাক্ত হওয়ার পর ইতোমধ্যেই বিশ্বজুড়ে মহামারী আকার নিয়েছে করোনাভাইরাস সংক্রমণ। কোটি কোটি মানুষকে আক্রান্ত করা এই ভাইরাস কেড়ে নিয়েছে লাখ লাখ মানুষের প্রাণ। বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে ফাইজার-বায়োএনটেক উদ্ভাবিত টিকাটি অনুমোদন করে যুক্তরাজ্য। গত মঙ্গলবার দেশটির সাধারণ মানুষের ওপর ভ্যাকসিনটি প্রয়োগ শুরু হয়েছে। ফাইজার-বায়োএনটেক উদ্ভাবিত ভাইরাসটি ৯৫ শতাংশ সুরক্ষা দিচ্ছে বলে জানা গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রক সংস্থা খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসনও (এফডিএ) ভ্যাকসিনটিকে নিরাপদ বলে মনে করছে। সারাবিশ্বে রবিবার পর্যন্ত ৭ কোটি ২৩ লাখ ৯৭ হাজার ৭৯৭ জনের করোনা সংক্রমণ চিহ্নিত হয়েছে। মারা গেছে ১৬ লাখ ১৬ হাজার ৪৪জন। সুস্থ হয়েছেন ৫ কোটি ৭ লাখ ২৪ হাজার ৫৩৬ জন। চিকিৎসাধীন আছে এক কোটি ৯৯ লাখ ৯৮ হাজার ৮০৮ জন। যাদের মধ্যে এক লাখ ৬ হাজার ৮২৫ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। গত ২৪ ঘণ্টায় ৬ লাখ ৩৮ হাজার ৩০ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছে। একদিনে নতুন করে মারা গেছে ১০ হাজার ৪৩২ জন। বিপি।এসএম
[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]

মন্তব্য (0)

আলোচনায় যোগ দিন

আপনার মতামত শেয়ার করতে এবং অন্যান্য পাঠকদের সাথে যুক্ত হতে দয়া করে লগইন করুন।

এখনো কোন মন্তব্য নেই

Be the first to share your thoughts on this article!

আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন

স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন


স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন

সঙ্গীত একাডেমি


সঙ্গীত একাডেমি