১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

১,৮৫০ শতাংশ জমি ভাইকে লিখে দেন ডিবি হারুন

Logo
বাংলা প্রেস প্রকাশ: ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৫৬ পিএম
১,৮৫০ শতাংশ জমি ভাইকে লিখে দেন ডিবি হারুন

বাংলাপ্রেস ডেস্ক:  ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে অর্জিত সম্পদের অংশ হিসেবে ভাই এবিএম শাহারিয়ারের নামে ১ হাজার ৮৫০ শতাংশ জমি লিখে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার ও ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সাবেক প্রধান হারুন অর রশীদের বিরুদ্ধে। ২০১৬ সালের ২২ আগস্ট মিঠামইন সাবরেজিস্ট্রি অফিসে হেবা দলিলের মাধ্যমে ওই জমি ভাইকে দেন তিনি।

দুদকের তদন্তে দুই ভাইয়ের সম্পদের মধ্যে সরাসরি যোগসূত্র এবং সম্পদের প্রকৃত উৎস গোপন করতে পারস্পরিক যোগসাজশের তথ্য উঠে এসেছে।

হারুনের ছোট ভাই এবিএম শাহারিয়ার প্রেসিডেন্ট রিসোর্ট অ্যান্ড অ্যাগ্রো লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক। দুদকের তদন্তে তার নামে ১৮ কোটি ৭৬ লাখ ৯৭ হাজার ১৮৫ টাকার স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে স্থাবর সম্পদের মূল্য ৭ কোটি ৮১ লাখ ৪৪ হাজার ৩০৭ টাকা। 

সাভার, রূপগঞ্জ, গুলশান ও কিশোরগঞ্জে তার জমি রয়েছে। পাশাপাশি প্রেসিডেন্ট রিসোর্ট অ্যান্ড অ্যাগ্রো লিমিটেডে তার বিনিয়োগ ৬ কোটি ১৬ লাখ ৩৫৭ টাকা। অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ ১০ কোটি ৯৫ লাখ ৫২ হাজার ৮৭৮ টাকা। ২০১৯-২০ থেকে ২০২৩-২৪ করবর্ষ পর্যন্ত শাহারিয়ারের মোট আয় ৬৫ লাখ ৩৭ হাজার ৩০৪ টাকা। ব্যয় হয়েছে ১৬ লাখ ৪৭ হাজার ১৭৪ টাকা। ফলে সম্পদ অর্জনের বৈধ উৎস ছিল ৪৮ লাখ ৯০ হাজার ১৩০ টাকা। এর বিপরীতে সম্পদের মূল্য ১৮ কোটি ৭৬ লাখ ৯৭ হাজার ১৮৫ টাকা। ফলে ১৮ কোটি ২৮ লাখ ৭ হাজার ৫৫ টাকা জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

দুই ভাইয়ের সম্পদের মধ্যে সরাসরি যোগসূত্রও পেয়েছে দুদক। ২০১৬ সালের ২২ আগস্ট মিঠামইন সাবরেজিস্ট্রি অফিসের হেবা দলিলের মাধ্যমে শাহারিয়ার তার ভাই হারুনের কাছ থেকে ১ হাজার ৮৫০ শতাংশ জমি পান। ওই সম্পদের মূল্য শাহারিয়ারের মামলায় ধরা হয়নি। হারুনের বিরুদ্ধে করা পৃথক মামলায় তা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

দুদকের তদন্তে বলা হয়েছে, হারুন ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে অর্জিত সম্পদ ভাইকে হেবা করেন এবং তাকে সম্পদ অর্জনে সহযোগিতা করেন। একই সঙ্গে দুই ভাই পরস্পর যোগসাজশে সম্পদের প্রকৃত উৎস গোপন করতে তা হস্তান্তর, স্থানান্তর ও রূপান্তর করেছেন।

চার্জশিটে হারুনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৭(১), ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) এবং মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ৪(২) ও ৪(৩) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। শাহারিয়ারের বিরুদ্ধে এসবের পাশাপাশি দণ্ডবিধির ১০৯ ধারায় অভিযোগ করা হয়েছে।
বিপি>টিডি

[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]

মন্তব্য (0)

আলোচনায় যোগ দিন

আপনার মতামত শেয়ার করতে এবং অন্যান্য পাঠকদের সাথে যুক্ত হতে দয়া করে লগইন করুন।

এখনো কোন মন্তব্য নেই

Be the first to share your thoughts on this article!

আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন

সঙ্গীত একাডেমি


সঙ্গীত একাডেমি